নারায়ণগঞ্জে বাসভাড়া কমানোর দাবিতে জেলা প্রশাসকের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সরকারি নির্দেশনা না মেনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিবহন খাতে ‘মাফিয়াদের’ দৌরাত্ম্যের অবসান, শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন নেতারা। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে বাসভাড়ার বিষয়টি সমাধান না হলে আন্দোলনে নামারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কক্ষে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, গণসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদের নেতারা বসেন। প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক শেষে বের হয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘অযৌক্তিকভাবে বাস ভাড়া বৃদ্ধি করেছে, এবং জনগণের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। যেখানে ১০ পয়সা বাড়ানোর কথা সেখানে ৫ টাকা বাড়িয়েছে। জনগণ এই অতিরিক্ত ভাড়া দিতে চাচ্ছে না। সুতরাং আমিও জনগণের দাবির সাথে একমত হয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠক করেছি।’
গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘পহেলা মে থেকে উৎসব-বন্ধন বাস মালিকেরা টিকিট প্রতি অতিরিক্ত ৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে। জেলা প্রশাসক যাত্রী ও পরিবহন সভাপতি হিসেবে তার কাছে আহ্বান জানাই যে, আমরা বাসভাড়া কমাতে আসিনি। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের বাস মালিকেরা যে অযৌক্তিকভাবে টিকিট প্রতি ২ টাকা ৮০ পয়সা অতিরিক্ত আদায় করছে, তিনি যেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।’ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বর্ধিত বাসভাড়া প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।
ইসলামী আন্দোলন মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে একটি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সরকার বাধ্য হয়েই তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। এবং দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এড়াতে গাড়ি ভাড়ার হার নির্ধারণ করেছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে কয়েকটি পরিবহন সরকারি চার্টকে তোয়াক্কা না করে নিজের মন মতো ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। এজন্য আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে এর প্রতিবাদ জানাতে এসেছি।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির মহানগরের আহ্বায়ক শওকত আলী বলেন, ‘সরকার তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাসভাড়া বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা। সেই হিসাবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ বাসভাড়া আসে ২ টাকা ১০ থেকে ২০ পয়সা। কিন্তু তারা কোনো আলাপ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত ছাড়াই ৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে। আমি মনে করি এটি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করা হয়েছে এবং জনগণের থেকে ২ টাকা ৮০ পয়সা বেশি নিচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ভাড়া বৃদ্ধি করলে যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করবে। এবং অযৌক্তিক যে ভাড়া আসে সেটি প্রত্যাহার করা হোক।
আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, আমরা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দিতে চাই, এবং দেখতে চাই তারা (প্রশাসন) বাস মালিকের সাথে আলোচনা করে সমাধান করতে পারে কিনা। যদি তারা ব্যর্থ হয় নারায়ণগঞ্জবাসী এই অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি না। তারা দেবেও না। নারায়ণগঞ্জের মানুষ কখনো অন্যায় মেনে নেয়নি এবারো নেবে না। যদি সমাধান না হয় আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবো।
গণসংহতি আন্দোলন জেলা নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস বলেন, নারায়ণগঞ্জের বাস-মালিকেরা সরকারি নির্দেশনার বাইরে অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে ৫ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। যেটি সম্পূর্ণভাবে অযৌক্তিক ও বেআইনি।
তিনি আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে আমরা বার বার দেখেছি অসাধু বাস মালিক ও সিন্ডিকেটরা এবং তার পেছনে হয়তো রাজনৈতিক মহল ও অসাধু চক্র থাকতে পারে। আমরা মনে করছি এই মাফিয়া তন্ত্র যে বাসভাড়াকে কেন্দ্র করে চলছে তার অবসান চাই।
গণধিকার পরিষদ জেলার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাহিদ হোসেন বলেন, বাস মালিকেরা সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে সেটি যদি প্রত্যাহার না করে তাহলে আমরা রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্ধ আরো জনগণের অধিকার আদায়ে রাস্তায় নামবো।
জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ফারহানা মানিক মুনা বলেন, যখন বাসভাড়া ৫০ টাকা ছিল তখন শিক্ষার্থীদের হাফ পাস হওয়ার কথা ছিল ২৫ টাকা। কিন্তু প্রত্যেক সময় সেটি ৩০ টাকা বহন করেছে। এখন যখন জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে সেই মূল্য যদি যোগ করা হয়। এরপরও সর্বোচ্চ শিক্ষার্থীদের ভাড়া আসে ২৭ টাকা। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ভাড়া বহন করছে। এবং গতকাল দেখলাম নতুনভাবে টিকেট ছাপিয়ে ৩৫ টাকা করা হয়েছে। এই যে সরকারের সিদ্ধান্তকে রীতিমতো অমর্যাদা করছে। জনগণ ও শিক্ষার্থীদের যে অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে তার জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও আহ্বান জানাই।



