কিশোরগঞ্জে পবিত্র রমজান মাসে ১০ টাকা লিটারে দুধ বিক্রি শুরু করেছে জেসি অ্যাগ্রো ফার্ম। মাসব্যাপী এই কার্যক্রম চলবে। ক্রেতারা সরাসরি খামারে গিয়ে এই দুধ কিনতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার রৌহা গ্রামে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
জেসি অ্যাগ্রো ফার্ম সূত্রে জানা গেছে, তাদের খামারে শতাধিক গরুর মধ্যে ১৮টি গাভি থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এইসব দুধের পুরোটাই তারা বিক্রি করে দেবেন। একজন ক্রেতা প্রতিদিন সর্বোচ্চ এক লিটার দুধ নিতে পারবেন। রোজাদারদের জন্য ছয় বছর ধরে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক। ধনী-গরিব সবাই দুধ কিনতে পারবেন। তবে গরিবদের অগ্রাধিকার বেশি।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় খামারে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ ভিড় জমিয়েছে দুধ নেয়ার জন্য। নানা বয়সী মানুষ এসেছে দুধ কিনতে। রোজার প্রথম দিন থেকেই ১০ টাকা লিটারে দুধ বিক্রি হচ্ছে।
রোজার মাসে এদেশের ব্যবসায়ীরা যখন খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা করে, সেখানে বিপরীত উদাহরণ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান খামারের মালিক মো: এরশাদ উদ্দিন।
স্বল্পমূল্যে রোজাদারদের পাতে দুধ তুলে দেয়ায় ২০২৪ সালে তিনি সরকারের কাছ থেকে ‘বেস্ট প্র্যাকটিস সম্মাননা’ পেয়েছিলেন।
এরশাদ উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি করিমগঞ্জের নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামে। গত ছয় বছর আগে এই গ্রামে ‘জেসি অ্যাগ্রো ফার্ম’ নামে খামারটি গড়ে তোলেন তিনি। খামারে কুরবানির ঈদ সামনে রেখে বর্তমানে শতাধিক গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। আরো গরু আনা হবে। এরমধ্যে উন্নতজাতের ১৮টি গাভি পালন করা হচ্ছে। গাভিগুলো প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ লিটার দুধ দিচ্ছে। সম্পূর্ণ দুধই রোজার মাসে তিনি ১০ টাকা লিটারে বিক্রি করবেন। সে হিসেবে এক মাসে তার খামার থেকে স্বল্পমূল্যে তিন টনের চেয়ে বেশি দুধ বিক্রি করা হবে। আগামীতেও এ কাজ অব্যাহত রাখবেন বলে তিনি জানেন।
এরশাদ উদ্দিন বলেন, ‘পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষকে একটু স্বস্তি দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছি আমি। রোজায় মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে খাদ্য পণ্যের দাম কমিয়ে দেয়া হয়। অথচ বাংলাদেশ এর বিপরীত। রোজা এলে এ দেশের ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর সিন্ডিকেট তৈরি করে। এ পরিস্থিতিতে বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে বাড়তি চাপ সামলাতে হয়। এসবের অবসানের জন্যই আমার এই উদ্যোগ। আমি চাইব দেশের অন্য ব্যবসায়ীরাও আমাকে অনুসরণ করুক।’
স্বল্পমূল্যে দুধ বিক্রি করায় ব্যবসায় তাকে লোকসান গুনতে হচ্ছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে এরশাদ উদ্দিন জানান, স্বল্পমূল্যে দুধ বিক্রি করলেও সামগ্রিক ব্যবসায় তার কোনো লোকসান হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘শুধু জেসি অ্যাগ্রো ফার্ম নয়, আমার আরো কয়েকটি ব্যবসা আছে। সব ব্যবসা মিলেই আমার লাভ-লোকসানের হিসাব। অন্য চার ব্যবসায় আমার মুনাফা হচ্ছে। যেমন- ইট, বালু, সিমেন্ট। এগুলো তো সব সময় সমান। খামারে খাদ্যপণ্য হিসেবে দুধ উৎপাদন হচ্ছে। রোজায় খাদ্যপণ্যের দাম কমিয়ে দিয়েছি। অন্য আর চারটি ব্যবসায় আমার মুনাফা তো ঠিকই হচ্ছে। সব ব্যবসার গড় টানলে দেখা যাচ্ছে আমার কোনো লোকসান হচ্ছে না।’
বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ ও ব্যবসায়ীদেরকে রমজানে খাদ্যপণ্যের দাম না বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।



