চুয়াডাঙ্গায় ১৩ মে থেকে আম সংগ্রহ শুরু

সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, কোনো অবস্থাতেই অপরিপক্ব আম বাজারজাত করা যাবে না। এছাড়া আম পাকানো ও সংরক্ষণে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এফ এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয় |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গা জেলায় চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার ৮৪২ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৩ মে (৩০ বৈশাখ) থেকে জেলার বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে।

রোববার (১০ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মিঠু চন্দ্র অধিকারী, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার, জেলা কৃষি বিপণনের মাঠ ও বাজার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান এবং সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১৩ মে থেকে আঁটি, গুটি, বোম্বাই, খিরসাপাতি ও গোপালভোগ; ২০ মে থেকে হিমসাগর; ২৫ মে থেকে ল্যাংড়া; ৫ জুন থেকে আম্রপালি (বারি আম-৩); ১৫ জুন থেকে ফজলি; ২০ জুন থেকে হাঁড়িভাঙ্গা; ২২ জুন থেকে ব্যানানা; ৩০ জুন থেকে আশ্বিনা (বারি আম-৪); ৫ জুলাই থেকে কার্টিমন এবং গৌড়মতি (বারি আম-১২) জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে।

সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, কোনো অবস্থাতেই অপরিপক্ব আম বাজারজাত করা যাবে না। এছাড়া আম পাকানো ও সংরক্ষণে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

তারা আরো জানান, অবৈধ উপায়ে আম পাকানো বা মজুদ করা হলে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯’ এবং ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, “নির্ধারিত সময়সূচির আগে কেউ অপরিপক্ব আম সংগ্রহ করতে পারবেন না। নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”