সড়কে জনসচেতনতা বাড়লে দুর্ঘটনা কমে আসবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

‘মহাসড়কের পাশে ব্রিজের পাশে ফুটপাত দখল করে পণ্য বেচা-কেনার ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকা উচিত। মহাসড়কে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমন স্থানে দোকানপাট বসানো ঠিক নয়।’

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান |নয়া দিগন্ত

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা অপূরণীয় ক্ষতি, আর্থিক সহযোগিতা বা অন্য কোনো কিছুর বিনিময়ে এটি পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে সড়কে জনসাধারণের চলাচলে সচেতনতা বাড়লে দুর্ঘটনা কমে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকের এটা কোনো আনন্দময় অনুষ্ঠান নয়, এটা একটি মানবিক অনুষ্ঠান। আজকে সরকার চেক বিতরণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আংশিক বা কিছু সহযোগিতা করছে। কিন্তু হতাহত পরিবারের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কখনোই আমরা বা কেউই পূরণ করে দিতে পারব না।’

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীতেই গুরুতর সমস্যা। বাংলাদেশে এই সমস্যাটা দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা দেখছি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দুর্ঘটনায় নিহত হন। অথবা দুর্ঘটনায় পরিবারের প্রধান ব্যক্তি এমনভাবে আহত হন যে, তিনি কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। সরকার হতাহতদের পরিবারকে সহযোগিতা করবে কিন্তু আমাদের সচেতন থাকা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করি। আমরা যদি কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাই এবং নিজেরা কোনো উদ্যোগ না নেই তবে কোনো সুফল বয়ে আনবে না। আমরা যদি সচেতন না হই, রাস্তা পারাপারের সময় নিজেরা যদি সাবধান থাকি তবেই দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলতে পারব।’

তিনি আরো বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে ব্রিজের পাশে ফুটপাত দখল করে পণ্য বেচা-কেনার ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকা উচিত। মহাসড়কে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমন স্থানে দোকানপাট বসানো ঠিক নয়। ঠিক একইভাবে রাস্তা পারাপারের সময় করণীয় বিষয়ে স্কুল পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। ছোটদের স্কুলে শিক্ষা দেয়া যাবে কিন্তু বড়দের মাঝে কিভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করা যায় সেই ব্যাপারেও আমাদের ভাবতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যাদের সহায়তা দেয়া হচ্ছে তাদের বেশিরভাগই প্রাপ্ত বয়স্ক। কাজেই এটা বুঝা যায় যে, প্রাপ্ত বয়স্কদের সচেতন হওয়া জরুরি। যানবাহনের মালিক, চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। চালককে সাবধানে গাড়ি চালাতে হবে। মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পারাপারের সময় বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। তখন দোষটা চালকের ওপর বত্যায়। এদিকেও সচেতনতা দরকার। আবার অনেক সময় দেখা যায়, চালক গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলছে, সিটবেল্ট পড়ে না। এই সামগ্রিক বিষয়ে সবাই সচেতন থাকলে দুর্ঘটনা কমে যাবে।’

ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকারের সভাপতিত্বে ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শাহনেওয়াজ মোর্শেদ অপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ জেলা মটর মালিক সমিতির মহাসচিব রতন আকন্দ, শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে তারাকান্দা উপজেলার স্কুলশিক্ষক গোলাম মাওলা সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্কুলপড়ুয়া নিহত মেয়ে ও আহত ছেলের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যবৃন্দ ছাড়া স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ।

বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড ময়মনসিংহ সার্কেলের অধিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৪টি পরিবার ও আহতদের ১৬টি পরিবারের মাঝে এক কোটি ৯৬ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ পাঁচ লাখ টাকা এবং আহতদের শ্রেণিভেদ অনুসারে এক-তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে ১৯ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলায় সংগঠিত সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক মোট আট কোটি তিন লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।

পরে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী নগরীর সার্কিট হাউস সংলগ্ন লেডিস ক্লাবে বৃক্ষরোপণ শেষে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কমানায় মোনাজাত করেন।