গণরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন : ফেনীতে মিয়া গোলাম পরওয়ার

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ফেনীর গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও আমাদের বাস্তবতা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

Location :

Feni
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার |নয়া দিগন্ত

ফেনী অফিস

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকারকে উদ্দেশ করে বলেছেন, গণভোটের গণরায় মেনে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন, দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবেন না।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ফেনীর গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও আমাদের বাস্তবতা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের জনগণ একসাথে দুটি রায় দিয়েছে। এর একটি মেনে বিএনপি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেও অন্যটি অস্বীকার করছে। ভোটের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। আর বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে বলছে জুলাই সনদ নাকি সংবিধান পরিপন্থি। এতে প্রমাণ হয় বিএনপি মুখে জুলাই সনদের কথা বললেও অন্তরে তারা জুলাই চেতনা ধারণ করে না।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বিএনপি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী দল। এ আন্দোলনে সহস্রাধিক ছাত্র-জনতা প্রাণ দিয়েছেন, ৩০-৪০ হাজার মানুষের রক্ত ঝরেছে। এরপর দীর্ঘ প্রায় নয় মাস ধরে দফায় দফায় বৈঠক করে ৮৪টি সংস্কারের প্রশ্নে ৩৭টি দল একমত হয়ে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে। তখন সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপিও একমত পোষণ করে। অথচ ক্ষমতায় গিয়ে তারা সংবিধান সংস্কার না করে কেবল সংশোধন করতে চায়। এ শুভংকরের ফাঁকি জনগণ মেনে নেবে না। এটা জনগণের রায়ের সাথে প্রতারণা।

তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন, অথচ বিএনপি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসাথে চেয়েছে। ক্ষমতায় গিয়ে সময়মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচন না করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোককে প্রশাসক নিয়োগ করেছে।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধীদলীয় নেতার কাছে প্রতিনিধি চেয়ে যে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, ১১ দলীয় ঐক্য সংবিধান সংশোধনের কোনো কমিটিতে যাবে না। আমরা চাই জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার করে এর কাঠামোগত পরিবর্তন।

সেমিনারের প্রধান বক্তা এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বিএনপি কেবল জুলাই সনদই নয়, বরং তাদের ঘোষিত ৩১ দফা থেকেও সরে গেছে। এক সময় একাত্তর নিয়ে ব্যবসা হয়েছে, এখন জুলাই নিয়ে ব্যবসা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জুলাই কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য ছিল না, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ সমান সুবিধা ভোগ করবে। কিন্তু বিএনপি সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে এবং আবারো কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, আমরা বলেছিলাম দলের প্রধান একই সাথে সরকার প্রধান ও সংসদ নেতা হতে পারবেন না, কিন্তু বিএনপি সেখানে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনে এদেশের মানুষ অর্থ জোগান দেবে।

ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের পরিচালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিস শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা: ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিস শূরা সদস্য একেএম সামছুদ্দিন ও অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন।

সেমিনারে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা নাজমুল আলম, এনসিপির জেলা সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, বিডিপি জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইসমাইল, জাগপা জেলা সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, শিবিরের শহর সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আবু ইউছুপ এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির জেলা সদস্য সচিব ফজলুল হক।

অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।