ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলোচিত শিশু নিশাত জাহান হত্যা মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিনিয়র আইনজীবী এহসানুল মাহবুব জোবায়ের।
তিনি বলেন, মামলার প্রধান আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থাকার পরও দীর্ঘ সময় ধরে চার্জশিট দাখিল না হওয়া রহস্যজনক। দ্রুত চার্জশিট দাখিল করে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে ফাঁসির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, "এ ধরনের জঘন্য অপরাধের জন্য প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড হওয়া প্রয়োজন। তবে আমাদের আইনের গণ্ডির বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।"
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের স্বপ্নতরী কনভেনশন হলে আলোচিত নিশাত জাহান হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় নিহত নিশাতের মা আকলিমা আক্তার ও পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মফিজুর রহমান বাবুল, বাদীপক্ষের প্রধান আইনজীবী আবুল বাসার সাধন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জুনায়েদ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা, জেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের ও কাজী সিরাজুল ইসলাম। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতাও নারী ও শিশু হত্যা মামলার দ্রুত বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু নিশাত হত্যা মামলার তদন্তে অস্বাভাবিক বিলম্ব উদ্বেগজনক। যেখানে প্রধান আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রয়েছে, সেখানে চার্জশিট দাখিলে এত দেরি কেন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ বিলম্বের পেছনে কোনো অদৃশ্য প্রভাব বা ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় অদৃশ্য শক্তির প্রভাব একটি বড় সমস্যা। এ কারণেই সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার চার্জশিট এখনো দাখিল করা সম্ভব হয়নি। গত ১৭ বছরে এ মামলার চার্জশিট দাখিলের সময় ১২৭ বার পিছিয়েছে।
তিনি তদন্তকারী সংস্থার প্রতি দ্রুত চার্জশিট দাখিল করে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ করেন, থানা পুলিশ তদন্ত শেষ করার পরও মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে অন্য সংস্থার তদন্তে থাকায় বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। আসামির স্বীকারোক্তির পরও তদন্ত শেষ না হওয়ার পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের হাত রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে চিপস কিনতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ছয় বছর বয়সী নিশাত আক্তার। দুই দিন পর, ১৭ এপ্রিল, বাড়ির পাশের একটি খোলা স্থান থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা আকলিমা আক্তার সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে তদন্তে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে উঠে আসে, প্রতিবেশী অটোরিকশাচালক মো. ইছা মিয়া ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে নিশাতকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। গ্রেফতারের পর ইছা মিয়া হত্যার দায় স্বীকার করে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তার ভাষ্যমতে, শিশুটি ঘটনাটি মাকে জানিয়ে দেয়ার কথা বলায় তিনি ভয়ে গেঞ্জি দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে একদিন লাশটি নিজ ঘরে লুকিয়ে রেখে বস্তাবন্দী অবস্থায় বাড়ির পাশের খোলা স্থানে ফেলে দেন।



