আমতলীতে ইমন হত্যাকারীদের গ্রেফতার দাবিতে সড়ক অবরোধ

রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের একে স্কুল পয়েন্টে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সড়কের দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়।

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা

Location :

Amtali
আমতলীতে ইমন হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে
আমতলীতে ইমন হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে |নয়া দিগন্ত

বরগুনায় আমতলী একে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র জাবেদ ইমন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের আলটিমেটাম দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন তারা। এ সময় দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের একে স্কুল পয়েন্টে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সড়কের দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়।

নিহত ইমনের সহপাঠী হিরা, মেহেদী, জিসান, মিশকাত ও রাকিবসহ শিক্ষার্থীরা বলেন, হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত রহস্য উদঘাটন বা জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে।

আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, আসামিদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মধ্য আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের আউয়াল প্যাদার ছেলে জাবেদ ইমন আমতলী একে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত ২৬ জুলাই বিকেলে সে আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ইমরান তালুকদার (হৃদয়) তাকে ডেকে দোকানে নিয়ে যান। সেখানে ইমনের বন্ধু সাজিদকে রেখে ইমরান তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান বলে পরিবারের দাবি। এরপর থেকে ইমনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরদিন ২৭ জুলাই আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা সগির বিশ্বাস ইমনের সন্ধান দেয়ার কথা বলে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন ইমনের বাবা আউয়াল প্যাদা। তার দাবি, সগির তিন দিন ধরে বিভিন্নভাবে তাদের হয়রানি করেন।

২৯ জুলাই সন্ধ্যায় মধ্য আড়পাঙ্গাশিয়া এলাকায় পায়রা নদীর পাড় থেকে বস্তাবন্দী একটি লাশ উদ্ধার করে আমতলী থানা পুলিশ। লাশ পচে যাওয়ায় তখন পরিবারের সদস্যরা সেটি শনাক্ত করতে পারেননি। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে বরগুনায় দাফন করা হয়।

৩১ জুলাই পুলিশ ইমনের বাবা আউয়াল প্যাদাকে থানায় ডেকে বস্তাবন্দী লাশের পরনের পোশাক দেখালে তিনি সেটি তার ছেলে ইমনের বলে শনাক্ত করেন। পরে গত ৫ আগস্ট তিনি আমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে নিদ্রা সকিনা নৌ-পুলিশের পরিদর্শক সাগর ভদ্রকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ইমনের লাশ শনাক্ত হওয়ার পর সগির বিশ্বাস ও ব্যবসায়ী ইমরান তালুকদার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

এদিকে ইমন হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে গত ৯ আগস্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একই সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে তারা।