কিশোরগঞ্জে বিএনপির ২ বিদ্রোহী হাঁস-মুরগি নিয়ে মাঠে

জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তারা তাদের মনোনয়ন ফিরে পান।

মো: আল আমিন, কিশোরগঞ্জ

Location :

Kishoreganj
হাঁস-মুরগি নিয়ে মাঠে বিদ্রোহী প্রার্থী
হাঁস-মুরগি নিয়ে মাঠে বিদ্রোহী প্রার্থী |নয়া দিগন্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে দুইটি আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়ে গেছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও তারা তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেননি। প্রতীক বরাদ্দের দিন তারা হাঁস ও মুরগি পেয়েছেন। ফলে বিএনপির এ দুই আসন এখন জেলাজুড়ে আলোচনায়। এর একটি হলো কিশোরগঞ্জ-১ ও আরেকটি কিশোরগঞ্জ-৫।

বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে এ দুই আসনে দুই বিদ্রোহী, স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে অনানুষ্ঠানিক প্রচার ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের অনুসারীরা নির্বাচনী মাঠে ব্যাপকভাবে কাজ করছেন। প্রতীক পেয়ে জোরেসোরে মাঠে নেমেছেন তারা।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন রেজাউল করিম খান চুন্নু। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি। বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে তিনি নির্বাচন করেছিলেন। ২০০৬ সালে চাকরি থেকে অবসর নিয়ে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী পেশায় তিনি আইন পরামর্শক ও ব্যবসায়ী। নির্বাচনে তিনি মুরগি প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মাজহারুল ইসলাম।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তিনি বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। এছাড়াও তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাকে হাঁস প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পান। পরে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে মজিবুর রহমান মঞ্জুকে মনোনয়ন দেয়া হয়। ওই নির্বাচনে মঞ্জু এমপি নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেন শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তিন দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত এই নেতা পেশায় ব্যবসায়ী। এবারের নির্বাচনেও প্রাথমিকভাবে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। পরে তার মনোনয়ন পরিবর্তন করে বিএনপি চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয় বাংলাদেশ জাতীয় দলের সদ্যসাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাকে। এহসানুল হুদা তার বাবার গড়া দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পান।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তারা তাদের মনোনয়ন ফিরে পান। নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এই দুই প্রার্থী ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের সাথে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়। তবে দুইজনই নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। বুধবার প্রতীক বরাদ্দের পর পুরোদমে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন তারা। এই দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার কারণে এরই মধ্যে নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। যদিও দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

গতকাল প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর দুই আসনের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত ১০ নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য লাগাতার বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও মশাল মিছিল করে। এরপরেও কেন্দ্রের সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই তারা স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

বিএনপির একাংশের দাবি, রেজাউল করিম খান চুন্নু ও শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল দলের জন্য যোগ্য প্রার্থী ছিল। এখন তারা ভোটের ফলাফলের মাধ্যমেই নিজেদের অবস্থানের যৌক্তিকতা প্রমাণ করবেন।

প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে কিশোরগঞ্জে-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম খান চুন্নু নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমি নির্বাচনী কাজের সব প্রস্তুতি শেষ করে এনেছি। দুই এক দিনের মধ্যে কেন্দ্র কমিটি গঠন করা হবে। আমাকে দল মনোনয়ন না দিলেও দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমার সাথে আছেন। আমার এলাকার জনগণ আমার পাশে আছে। তারাই জনগণ আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। মুরগিকে আজকে থেকেই আমি ধান খাওয়ানো শুরু করব। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘নিকলী বাজিতপুরের জনগণ আমার সাথে রয়েছেন। আমি নিজ থেকে প্রার্থী হইনি। নিকলী বাজিতপুরের মানুষ আমাকে প্রার্থী করেছে। জনগণ আমার জন্য মাঠে কাজ করছে। তাদের নিয়েই আমি জীবনভর রাজনীতি করেছি। তাই তাদেরকে আমি ছেড়ে যেতে পারি না। হাওরে হাঁসের বিচরণভূমি। নির্বাচনের দিন হাঁসকে ধান খাইয়ে আমি আমার নির্বাচনী ফল ঘরে তুলবো।’