চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আমিরপুর রেলগেটে ট্রেনে কাটা পড়ে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। গেটম্যান নিয়োগের দাবিতে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা রেলপথ অবরোধ করে রাখেন। এতে খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত যাত্রী।
ঘটনাটি ঘটে আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে। চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের সাথে সংঘর্ষে মোটরসাইকেলসহ ওই যুবক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনের ইঞ্জিনে ধাক্কা খেয়ে মোটরসাইকেলটি প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় ট্রেনটি।
নিহত যুবক মো: জীবন (২৫) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামের মোহাম্মদ আরমান আলীর ছেলে এবং একটি সিগারেট কোম্পানিতে চাকরিরত ছিলেন।
দুর্ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গেটম্যান নিয়োগের দাবিতে রেললাইন অবরোধ করেন। এতে রাজশাহী থেকে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে আসা কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি আমিরপুর এলাকায় আটকে পড়ে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, আমিরপুর রেলগেটটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এই গেটে এর আগেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গেটম্যান না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা। তাদের বক্তব্য, ‘গেটম্যান থাকলে এ প্রাণহানি এড়ানো যেত।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এখানে অবশ্যই গেটম্যান থাকা দরকার। আমি তিন দিন সময় নিচ্ছি, এর মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চেষ্টা করব।’
তবে বিক্ষোভকারীরা লিখিত প্রতিশ্রুতি ছাড়া অবরোধ না তোলার ঘোষণা দেন।
এদিকে, রেললাইন অবরোধের কারণে ট্রেনযাত্রীরা পড়েন মারাত্মক ভোগান্তিতে। প্রচণ্ড গরমে ট্রেনের ভেতরে আটকে থেকে অসহ্য পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তারা।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জগদীশ চন্দ্র বসু বলেন, ‘রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এরপর গেটম্যানের দাবিতে শত শত মানুষ রেলপথ অবরোধ করেন। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছি।’
সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা রেললাইন থেকে সরে যাননি। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—গেটম্যান নিয়োগের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।



