বড়াইগ্রামে ব্যবসায়ীর অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবি, গ্রেফতার ২

শৈবাল চৌধুরীর রেন্ট এ কারের ব্যবসা রয়েছে। অভিযুক্ত রাসেল তার একটি মাইক্রোবাসের চালক ছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন অনিয়ম করায় কিছুদিন আগে শৈবাল তাকে চাকরি থেকে বাদ দেন। এতে রাসেল মানসিকভাবে ক্ষুব্ধ হলেও বিষয়টি বুঝতে না দিয়ে তার সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখেন।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা

Location :

Baraigram
অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবির দায়ে গ্রেফতার দুই আসামি
অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবির দায়ে গ্রেফতার দুই আসামি |নয়া দিগন্ত

নাটোরের বড়াইগ্রামে শৈবাল চৌধুরী (২২) নামে এক নওমুসলিম পরিবহন ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে নারীর সাথে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) গ্রেফতার দু’জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর আগে, শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার দু’জন হলেন— উপজেলার বনপাড়া সরদার পাড়া মহল্লার সানু খাঁর ছেলে রাসেল হোসেন (৩৭) ও একই মহল্লার রেজাউল করিমের ছেলে রহিদুল ইসলাম রোহান (২৮)

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শৈবাল চৌধুরী উপজেলার বনপাড়া দিয়াড়পাড়া এলাকার শৈলেন্দ্র প্রসাদ চৌধুরীর ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, শৈবাল চৌধুরীর রেন্ট এ কারের ব্যবসা রয়েছে। অভিযুক্ত রাসেল তার একটি মাইক্রোবাসের চালক ছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন অনিয়ম করায় কিছুদিন আগে শৈবাল তাকে চাকরি থেকে বাদ দেন। এতে রাসেল মানসিকভাবে ক্ষুব্ধ হলেও বিষয়টি বুঝতে না দিয়ে তার সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে তিনি শৈবালকে সরদারপাড়ায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। শৈবাল সে প্রস্তাবে রাজি হলে রাসেল তাকে বনপাড়া সরদারপাড়ায় তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরিকল্পনা মোতাবেক আগে থেকেই ওই বাসায় একজন নারীসহ আরো ছয়-সাতজন লোক অবস্থান করছিলেন।

বাসায় যাবার পরই রাসেলের নেতৃত্বে সেখানে থাকা যুবকরা শৈবালকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে। পরে তারা ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে তার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

একপর্যায়ে শৈবাল তাকে এটিএম বুথে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। পরে তাদের সাথে মোটরসাইকেলে চড়ে বনপাড়া বাজারের বুথে যাবার পথে লোকজন দেখে চিৎকার করলে তারা শৈবালকে ছেড়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে শনিবার তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার আসামিরা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছে। মূল অভিযুক্তসহ দু’জনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, ৩ আগস্ট উপজেলার মাঝগাঁও এলাকা থেকে একই পদ্ধতিতে ভিডিও ধারণ করে অপর এক ব্যবসায়ীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।