জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১০ দলীয় জোটের কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘ইনসাফভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করতে আপনারা শাপলা কলিতে ভোট দেবেন। আমাকে দিয়ে আর যাই সম্ভব হোক, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি কোনো দিনও সম্ভব না। আপনারা বিনা পয়সায় ভোট দেবেন, আমরা পাঁচ বছর বিনা পয়সায় আপনাদের সার্ভিস দেবো।’
তিনি বলেন, ‘আমি সম্মান ও মানুষের সেবা করার আগ্রহ থেকে রাজনীতিতে এসেছি। এই অঙ্গনে যেন শুধু শিক্ষিত ও সজ্জন ব্যক্তিরাই আসে। ব্যাংক ডাকাতেরা রাজনীতিতে আসে তাদের অবৈধ সম্পদ রক্ষা করতে এবং ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি-বাড়ির সুবিধা নিতে। রাজনীতি যেন কোনোভাবেই ইনভেস্টমেন্ট এবং সেই বিনিয়োগের রিটার্ন পাওয়ার মাধ্যম না হয়, তা ভোটারদেরই নিশ্চিত করতে হবে।’
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার শুরুর দ্বিতীয় দিনে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভিংলাবাড়ি এলাকায় নির্বাচনি উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘হয়তো অন্য পার্টি করে, অন্য পার্টির প্রোগ্রামে যাবে, অন্য পার্টির মার্কা নিয়ে মিছিল করবে কিন্তু গোপনে সে আমাকে ভোট দেবে ইনশল্লাহ। সিএনজি যারা চালায়, প্রত্যেকটা খেটে খাওয়া মানুষ জানে, দোকানদার জানে যে হাসনাত আব্দুল্লাহ যদি নির্বাচিত হয়, আর যাই হোক ১০ টাকার জন্য কোনো দিন আসবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত দেড় বছরে আমি কিংবা আমার লোক বা ১০ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের কেউ আপনাদের কাছে একটা পয়সার জন্য যায় নাই। কেউ চাঁদাবাজি করতে যায় নাই, কেউ বাজার দখল করতে যায় নাই, কেউ হাট দখল করতে যায় নাই, কেউ সিএনজি থেকে টাকা নেয় নাই। যারা বেকার, যারা কর্ম করে খায়, যারা রেমিটেন্স যোদ্ধা, যারা কর্ম করে খায়, যারা কলকারখানাতে কাজ করে, তাদের থেকে এবার নেতা নির্বাচিত হবে ইনশাল্লাহ।’
এনসিপি নেতা বলেন, ‘রাজনীতিকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে হবে। রাজনীতি যদি ব্যয়বহুল ও বিলাসিতার বিষয়ে পরিণত হয়, তাহলে তা ব্যাংক ডাকাত, লুটেরা ও দুর্নীতিবাজদের দখলে চলে যাবে।’ এছাড়া পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ রাজনীতিতে বিদ্যমান ‘ভিআইপি কালচার’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রোগ্রাম গুলোতে আমরা বড় চেয়ার, ছোট চেয়ারের বৈষম্য বা বিশেষ প্রটোকল এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। আয়োজকদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা নেতাদের ঘিরে রেখে কৃত্রিম বলয় তৈরি করবেন না। নেতাকে সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেললে তিনি নির্দিষ্ট একটি গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়েন। এতে রাজনীতি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’
ভোটারদের উদ্দেশ্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এমন কোনো নেতা পাশে রাখব না, যে ইনসাফের কথা বলে মানুষের টাকা আত্মসাৎ করবে।’
কেন্দ্র দখল ও হুমকির রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ভোট দেয়া সম্পূর্ণ ভালোবাসার বিষয়, এখানে জোরজবরদস্তির কোনো স্থান নেই।’
এর আগে, সকালে নিউমার্কেট থেকে গণসংযোগ শুরু করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম শহীদসহ ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিপুলসংখ্যক সমর্থক।
উল্লেখ্য, শুক্রবার হাসনাত আব্দুল্লাহর নির্বাচনি প্রচারে মুখর ছিল দেবিদ্বারের বিভিন্ন এলাকা। তিনি পৌরসভার ভিংলাবাড়ি, মোহনপুর ইউনিয়নের বিহারমন্ডল, ছোটনা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও শান্তির রোডে পৃথক পৃথক উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন। এছাড়া বরকামতা ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে তার নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।



