আলমডাঙ্গায় ৫ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে বৃদ্ধ নিহত, বহু ক্ষয়ক্ষতি

বর্তমানে নিহত আকমানের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। অন্যদিকে, ঘরহারা বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। একটি ঝড় যেন কেড়ে নিয়েছে পুরো গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা
নয়া দিগন্ত

মাত্র পাঁচ মিনিট। কিন্তু সেই স্বল্প সময়েই যেন মৃত্যু আর ধ্বংসের বিভীষিকা নেমে এলো চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার উদয়পুর গ্রামে। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে পুরো গ্রাম, আর সেই তাণ্ডবেই প্রাণ হারালেন আকমান (৬০) নামের এক বৃদ্ধ।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে হঠাৎ করেই কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি ছিল টর্নেডোর মতো ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়, যার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র পাঁচ মিনিট, কিন্তু তাতেই শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও শত শত গাছ উপড়ে পড়ে।

নিহত আকমান মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে এবং পেশায় একজন অটোচালক। ঝড়ের সময় তিনি নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ একটি বিশাল গাছ শিকড়সহ উপড়ে তার ঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই ঘরটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

রাতেই সরেজমিনে দেখা গেছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। গ্রামের অধিকাংশ ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে, অনেক ঘর মাটির সাথে মিশে গেছে। গাছ ও ভাঙা ডালপালায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। আম-লিচুর মুকুলসহ মৌসুমি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ঝড়ের খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, হঠাৎ এই দুর্যোগে তারা এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

বর্তমানে নিহত আকমানের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। অন্যদিকে, ঘরহারা বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। একটি ঝড় যেন কেড়ে নিয়েছে পুরো গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে এই দুর্ভোগ আরো প্রকট আকার ধারণ করবে।