মামলার হুমকির অভিযোগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের জাপা প্রার্থী

এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

Location :

Brahmanbaria
অ্যাডভোকেট মো: জিয়াউল হক মৃধা
অ্যাডভোকেট মো: জিয়াউল হক মৃধা |ছবি : নয়া দিগন্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের একাংশ) আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: জিয়াউল হক মৃধা। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ, একাধিক মামলা, গ্রেফতার আতঙ্ক এবং ধারাবাহিক ভয়-ভীতির কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাকে তিনটি মামলায় জড়ানো হয় এবং নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে কার্যত বিতাড়িত করা হয়। অথচ এসব মামলার ঘটনার সাথে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি অভিযোগের সময় তিনি সংসদ সদস্যও ছিলেন না বলেও উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরো জানান, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি সশরীরে উপস্থিত থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি। তবে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তার পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এবং যাচাই-বাছাই শেষে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলেও শুরু থেকেই তাকে ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভয়-ভীতি, হুমকি এবং গ্রেফতারের আশঙ্কা সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে অন্যান্য প্রার্থীদের মতো স্বাধীন ও স্বাভাবিকভাবে প্রচারণা চালানো তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। নিজের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দলের সর্বস্তরের সিদ্ধান্তক্রমে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি সাংবাদিক, আবেগপ্রবণ ভোটার, শুভানুধ্যায়ী, আত্মীয়-স্বজন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসাথে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। নিজের নির্বাচনী এলাকার জনগণের নিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য ও শান্তি কামনা করে দোয়া ও আশীর্বাদ চান।

এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।