রংপুর মহানগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়। এতে ইমামতি করবেন মাওলানা বায়েজিদ হোসাইন। অন্যদিকে সিটি প্রশাসক ঘোষণা দিয়েছেন আট ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য পরিষ্কার করা হবে।
বুধবার (২৭ মে) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর কালেক্টরেট মাঠে ঈদের নামাজের প্রস্তুতি শেষে করেছে সিটি কর্তৃপক্ষ। সাটানো হয়েছে সামিয়ানা।
এই মাঠে স্থানীয় এমপি, সিটি প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), এসপিসহ একত্রে ৩৫ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ পড়বেন। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে মডেল মসজিদে সকাল ৯টায় দুই দফায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এবার রংপুর মহানগরীতে ৭৫টিসহ জেলায় প্রায় এক হাজার ২০০টি ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সব থেকে বড় জামাত হবে গঙ্গাচড়ার তালুক হাবু ঈদগাহ মাঠে। এখানে ৫৭টি জামাতের প্রায় ৫০ হাজার মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করেন।
এদিকে দুপুরে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন করেছেন সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুর ডন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও র্যাব-১৩-এর একটি বিশেষ টিম।
পরে র্যাব-১৩ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ঈদের জামাতকে বিবেচনায় রেখে র্যাবের পক্ষ থেকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, মাঠ ও আশপাশের এলাকায় টহল জোরদার, সাদা পোশাকে সদস্য মোতায়েন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তার জন্য র্যাব-১৩-এর টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা, চুরি, ছিনতাই, বিশৃঙ্খলা কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিরোধে র্যাব সদস্যরা সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।’
ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টায় কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আমাদের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া যেহেতু প্রতিকূল, আমরা এই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কিভাবে এই ঈদগাহ মাঠে নামাজ পড়া যায় সেজন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি। আগে যেভাবে বড় পরিসরে হতো সেটাকে আরেকটু সংকুচিত করে এনে আমরা ত্রিপল দিয়ে চারপাশে ঢেকে দিচ্ছি। যাতে প্রচণ্ড বৃষ্টি হলেও কালেক্টরেট মাঠে আমরা নামাজ পড়তে পারি। তাছাড়াও একেবারে যদি খুব ঝড়ো আবহাওয়া হয় তাহলে মডেল মসজিদে দুইটা জামাত করার পরিকল্পনা আছে। আমরা ওভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। সকাল ৮টায় প্রথম জামাত এবং সকাল ৯টায় হবে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।’
মাঠ পরিদর্শন শেষে নগর প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশন থেকে ৩৩টি ওয়ার্ডে ৬৬টি জায়গায় কোরবানি করার ব্যবস্থা আছে। আপনারা যত্রতত্র পশু কোরবানি না করে সিটি করপোরেশন নির্ধারিত যে ৬৬টি জায়গা আছে সেই জায়গাগুলোতে পশু কোরবানি করবেন। এর পাশাপাশি কেউ যদি বাসাবাড়ির আঙিনায় করতে চান তাহলে সেই পশুটি কোরবানির পরে আপনারা যথেষ্ট পরিমাণ পানি ঢালবেন, ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিবেন এবং কোরবানির পশুর যে বর্জ্যগুলো আছে সেগুলো অন্তত তিন ফুট গর্ত করে মাটিতে পুঁতে ফেলবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘যদি কোনো নাগরিক তাদের আঙিনায় কোরবানির পশুর বর্জ্য পুঁতে ফেলার মতো যথেষ্ট জায়গা না পান তাহলে সেই বর্জ্যগুলো আমাদের রংপুর সিটি করপোরেশন থেকে নির্ধারিত ডাস্টবিনগুলোতে ফেলার জন্য আহ্বান করছি। এর পাশাপাশি আমি প্রত্যাশা করছি, যেকোনোভাবে আমরা আট ঘণ্টার মধ্যেই কোরবানির পশুর বর্জ্যগুলো পরিষ্কার করে আগের মতো রংপুর সিটিকে আবার পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করতে সক্ষম হব।’
উল্লেখ্য, ঈদের দিন দুপুর ২টায় সিটি ভবনের সামনে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করবেন সিটি প্রশাসক।



