রংপুরে ১৫ বছরে ৬৮ হাজার মানুষকে জীবিকা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ভিশন

রংপুরের মিঠাপুকুরে ১৫ বছরে ৬৮ হাজার মানুষকে জীবিকা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ভিশন।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
উপজেলা অডিটোরিয়ামে ওয়ার্ল্ড ভিশন মিঠাপুকুর এরিয়া প্রোগ্রামের আলোচনা সভা
উপজেলা অডিটোরিয়ামে ওয়ার্ল্ড ভিশন মিঠাপুকুর এরিয়া প্রোগ্রামের আলোচনা সভা |নয়া দিগন্ত

রংপুরের মিঠাপুকুরে ১৫ বছরে ৬৮ হাজার মানুষকে জীবিকা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ভিশন।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জীবিকায়ন, শিশু সুরক্ষা, পানি ও স্যানিটেশন, দুর্যোগ মোকাবিলা ও জলবায়ু অভিযোজন, দারিদ্র্য বিমোচন, আত্মকর্মসংস্থান তৈরির ১৫ বছর ধরে চলা উন্নয়ন কার্যক্রম সমাপ্তি ঘোষণা করল বেসরকারি সংগঠন ওয়ার্ল্ড ভিশন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) মিঠাপুকুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের মিঠাপুকুর এরিয়া প্রোগ্রামের সমাপনী আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের এমপি গোলাম রব্বানী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ম্যানেজার রীতম ভট্টারায়, হেড অব ফ্রেজাইল অ্যান্ড ডেভেলপিং কনটেক্সট-ইন্টারন্যাশনাল পার্টনারশিপস বেলিন্ডা রব, সিনিয়র ডিরেক্টর অপারেশনস চন্দন জেড. গমেজ, ডিরেক্টর-অপারেশনস অ্যান্ড টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম লিমা হান্না দারিং, রংপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক, জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী।

সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: পারভেজ।

এ সময় বলা হয়, ২০১০ সালে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের মিঠাপুকুর এরিয়া প্রোগ্রামের আওতায় কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন, গ্রাম উন্নয়ন কমিটি, শিশু ও যুব ফোরাম এবং উৎপাদক দলসহ স্থানীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে জনগণের নেতৃত্ব ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, জীবিকায়ন, শিশু সুরক্ষা, পানি ও স্যানিটেশন, দুর্যোগ মোকাবিলা ও জলবায়ু অভিযোজনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করেছে সংস্থাটি। মিঠাপুকুরের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও শিশুদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানীয় জনগণ, স্থানীয় সরকার এবং বিভিন্ন কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এ সময় আরো বলা হয়, দীর্ঘ ১৫ বছরে উপজেলার ২টি ইউনিয়নের প্রায় ৬৮ হাজার ২৪৭ জন মানুষের কাছে বিভিন্ন সেবা ও উন্নয়ন সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সুরক্ষা ও সার্বিক বিকাশের পাশাপাশি পরিবারগুলোর জীবিকা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে।

এ সময় আরো বলা হয়, দীর্ঘদিনের এই অংশীদারিত্বের ফলে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠনগুলোর মধ্যে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা আরো শক্তিশালী হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, একটি প্রোগ্রামের সমাপ্তি মানেই উন্নয়নের সমাপ্তি নয়। স্থানীয় জনগণের নেতৃত্ব, সক্ষমতা ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মিঠাপুকুরে উন্নয়নের এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এটাই মিঠাপুকুরে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের দীর্ঘ ১৫ বছরের উন্নয়নযাত্রার সবচেয়ে বড় অর্জন ও উত্তরাধিকার।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রংপুর-৫ আসনের এমপি গোলাম রব্বানী বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশনের কার্যক্রম প্রশংসার দাবিদার। তাদের রেখে যাওয়া কাজ তদারকির মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।