সিলেট প্রেসক্লাবে সদস্য অন্তর্ভুক্তিতে প্রথমবার লিখিত পরীক্ষা

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি আবেদনকারীদের জমা দেয়া কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সদস্যপদের জন্য চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা হবে।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
সিলেট প্রেসক্লাব
সিলেট প্রেসক্লাব |নয়া দিগন্ত

সিলেটের শত বছরের সাংবাদিকতার স্মারক প্রতিষ্ঠান সিলেট প্রেসক্লাবে যোগ্য ও পেশাদার সাংবাদিকদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় সিলেট প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ১১ জন আবেদনকারী (সাংবাদিক) অংশ নেন।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পরবর্তী ধাপে ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি আবেদনকারীদের জমা দেয়া কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সদস্যপদের জন্য চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা হবে।

প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূর নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, সাংবাদিকতার পরিচয়কে ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপতৎপরতার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সদস্যপদ প্রদানের ক্ষেত্রে আরো স্বচ্ছ, যাচাইযোগ্য ও বাস্তবমুখী প্রক্রিয়া প্রয়োজন। সেই প্রয়োজন থেকেই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন আবেদনকারীর সাংবাদিকতা বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান, পেশাগত ধারণা, সংবাদবোধ ও দায়িত্বশীলতার বিষয়গুলো যাচাই করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পরীক্ষা আয়োজনের জন্য প্রেসক্লাবের সাবেক তিনজন সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, আহমেদ নূর ও ইকরামুল কবিরের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ পরীক্ষার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।

পরীক্ষা চলাকালে সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ হান্নানসহ পরীক্ষা আয়োজক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রক্রিয়ার পরিবর্তে যাচাই-বাছাইকে গুরুত্ব দিয়ে সদস্য অন্তর্ভুক্তির এ উদ্যোগকে সাংবাদিকতার পেশাগত মান ও মর্যাদা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে রিপোর্টারদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক এবং ফটোজার্নালিস্ট ও ভিডিও ক্যামেরাপার্সনদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম এইচএসসি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে আবেদনকারীকে সিলেট মহানগরীতে স্থানীয় বা জাতীয় গণমাধ্যমে অন্তত এক বছর সাংবাদিকতা পেশায় কর্মরত থাকার প্রমাণপত্র দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পরিচয় বা কোনো গণমাধ্যমের সাথে নামমাত্র সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে সদস্যপদ না দিয়ে বাস্তব সাংবাদিকতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচন করা হলে প্রেসক্লাবের গ্রহণযোগ্যতা আরো বাড়বে। একই সাথে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ভুঁইফোড় কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারীদের থেকে পেশাটিকে আলাদা রাখতেও এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সাংবাদিকতার পেশাগত মান, নৈতিকতা ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে প্রকৃত সাংবাদিকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার এ প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে আরো কার্যকর ও স্বচ্ছভাবে এগিয়ে নেয়া হবে। এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।