ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গোলাম পরওয়ার

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট

‘১১ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে তিনটি মৌলিক চেতনাকে ধারণ করে-ইসলামী চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাই বিপ্লবের চেতনা। এই তিন চেতনার সমন্বয়েই একটি স্বাধীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে জোটটি নির্বাচনের মাঠে রয়েছে।’

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

Location :

Brahmanbaria
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গোলাম পরওয়ার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গোলাম পরওয়ার |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘১১ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে তিনটি মৌলিক চেতনাকে ধারণ করে-ইসলামী চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাই বিপ্লবের চেতনা। এই তিন চেতনার সমন্বয়েই একটি স্বাধীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে জোটটি নির্বাচনের মাঠে রয়েছে।’

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আতাউর রহমান সরকারের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কসবা পৌরসভার টি আলী কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘না’ ভোট মানে ফ্যাসিবাদ ও বিদেশী আধিপত্যের পথে যাত্রা, আর ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে অবস্থান নেয়া। যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে তারা দেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদ কায়েমের অপচেষ্টা করছে।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এসব সভায় তিনি জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে আজাদীর পক্ষে অবস্থান নেওয়া, গোলামিকে প্রত্যাখ্যান করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ‘না’ ভোটের পক্ষে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা দেশ ও জাতির জন্য গভীর উদ্বেগজনক।

জনসভায় এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আতাউর রহমান সরকারের হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের ১১ দলীয় জোট ও এনসিপির প্রার্থী মো: আতাউল্লাহর হাতে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক তুলে দেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এর আগে সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে অনুষ্ঠিত অপর এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাস, অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর হতে হবে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে যারা তৃতীয় কোনো পক্ষকে সুবিধা দিতে চায়, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় নারী হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান তিনি।

পরে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো: মহসীনের হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ (নবীনগর) আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আমৃজাদ হোসাইন আশরাফীর হাতে রিক্সা প্রতীক তুলে দেন।

উল্লেখ্য, উভয় কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলা জামায়াত, খেলাফত মজলিস, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র ও যুব নেতারা বক্তব্য রাখেন। উভয় সভায় হাজারো নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে। সভাস্থলে প্রধান অতিথি ও কেন্দ্রীয় নেতারা পৌঁছার আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে জনসভা দুটিতে বিপুলসংখ্যক নারীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। যা সভাগুলোর গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

এ সময় স্থানীয় শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক ও নির্বাচনী সংগীত সভার পরিবেশকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে।