পটুয়াখালীর সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত দেশের একমাত্র স্থান, যেখান থেকে একসাথে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। এ অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই বছরের শেষ সূর্যাস্তকে বিদায় এবং নতুন বছরের প্রথম সূর্যকে স্বাগত জানাতে কুয়াকাটায় ভিড় করেছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই পর্যটকদের আগমন শুরু হয় সৈকতে। তবে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম। তীব্র শীত ও কুয়াশাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।
সৈকতে আগত পর্যটকদের দেখা যায় নানা আনন্দঘন কর্মকাণ্ডে মেতে উঠতে। কেউ বালিয়াড়িতে হেঁটে বেড়াচ্ছেন, কেউ নোনা জলে পা ভিজিয়ে উপভোগ করছেন সমুদ্রের ছোঁয়া। আবার অনেকে সৈকতের বেঞ্চিতে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। পর্যটকদের একটি অংশ ঘোড়ায় চড়ে কিংবা বিভিন্ন স্পটে ঘুরে দেখছেন কুয়াকাটার সৌন্দর্য।
হোটেল-মোটেলগুলোতে শতভাগ বুকিং না থাকলেও প্রায় ৫০ শতাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের আশা, আগামীকাল থেকে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সেবায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং থানা পুলিশের সদস্যরা মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সৈকতের বেঞ্চ ব্যবসায়ী রহমান জানান, ‘আজ থেকে পর্যটক আসতে শুরু করেছে। আগামীকাল আরো বাড়বে বলে আশা করছি। তবে শীতটা একটু বেশি।’
হোটেল খান প্যালেসের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহিম খান বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে আজ পর্যটক কিছুটা কম এসেছে। তবে আগামীকাল থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছি।’
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মো: ছাব্বির বলেন, ‘কুয়াকাটায় এসে দেখি প্রচণ্ড শীত। কুয়াশার কারণে সূর্যের মুখই দেখা যায়নি। শীতের জন্য বাইরে বের হতে কষ্ট হচ্ছে।’
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: মোতালেব শরীফ জানান, সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পর্যটকের সংখ্যা বেশি হবে ভেবেছিলাম। কিন্তু তীব্র শীতের কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী পর্যটক আসেনি। তারপরও প্রায় ৫০ শতাংশ হোটেল কক্ষ বুকিং রয়েছে। আগামীকাল আরো পর্যটক আসবে বলে আশা করছি।’
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: ইয়াসীন সাদেক বলেন, ‘কুয়াকাটায় পর্যটকের আগমন ঘটেছে, তবে শীতের কারণে সংখ্যা কিছুটা কম। পর্যটকদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৌর প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’



