ভূরুঙ্গামারীতে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন

‘কৃষি কাজ ও মাছ চাষের ক্ষেত্রে খালের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শীতকালীন ফসল উৎপাদনের সময় পানি স্বল্পতা দেখা দেয়। খাল খননের মাধ্যমে পানি ধরে রেখে সেচের ব্যবস্থা করা হলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। এতে এ এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।’

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Kurigram
খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন
খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন |নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) দুপুরে উপজেলার ঝুকিয়া বিল পুনঃখননের উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম।

অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা ব্যয়ে ঝুকিয়া বিলের দুই কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

স্থানীয়রা জানায়, ঝুকিয়া বিল পুনঃখনন করা হলে উপজেলার ভূরুঙ্গামারী ও তিলাই ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণ কৃষি জমির জলাবদ্ধতা দূর হবে। সেইসাথে মাছ চাষ ও পানি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, ঝুকিয়া বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় উজানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে দুই ইউনিয়নের কয়েক শ’ একর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যায়।

আজিজুল হক বলেন, ঝুকিয়া বিলে এক সময় সারা বছর ১০ থেকে ১২ ফুট পানি থাকত। প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। বিলটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় দেশী প্রজাতির মাছ হারিয়ে গেছে।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল হক তারেক বলেন, বর্তমান সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা ব্যয়ে ঝুকিয়া বিলের দুই কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। এছাড়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় সেখানে দু’টি বক্স কালভার্ট, একটি কাঠের সেতু, বিলের উভয় পাড়ে গাছ রোপন ও পানি সেচ পাইপ বসানো হবে।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল হক তারেকের (সহকারী কমিশনার, ভূমি) সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মন্ডল, সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম আকন্দ, যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখারুল ইসলাম শ্যামা, সিনিয়ার সদস্য কাজী নিজাম উদ্দিন ও জামায়াত নেতা ফেরদৌস হোসেন।

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষি কাজ ও মাছ চাষের ক্ষেত্রে খালের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শীতকালীন ফসল উৎপাদনের সময় পানি স্বল্পতা দেখা দেয়। খাল খননের মাধ্যমে পানি ধরে রেখে সেচের ব্যবস্থা করা হলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। এতে এ এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।’