মানিকগঞ্জে যাকে কেন্দ্র করে ট্রিপল মার্ডার সঙ্ঘটিত হয়েছে, সাত বছরের শিশু আতিকা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি সেই কিশোর নাঈম ইসলামকে (১৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার কিশোর নাঈম মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপাড়িল দক্ষিণপাড়া এলাকার মরহুম পান্নু মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় নিহত আতিকা আক্তারের মা আরিফা আক্তার পাঁচজনকে আসামি করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন— কিশোর নাঈম ইসলাম (১৫) ও তার বাবা হামলায় নিহত পান্নু মিয়া (৪৫), চাচা হামলায় নিহত ফজলু মিয়া (৩০), নাঈম ইসলামের ভাই আহত নাজমুল হোসেন (২৪) ও প্রতিবেশী রনি মিয়া (২২)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল শিশু আতিকা আক্তার। সর্বশেষ প্রতিবেশী কিশোর নাঈম ইসলামের সাথে শিশুটিকে দেখা যায়। তার কিছুক্ষণ পর আতিকা আক্তারকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর আতিকার পরিবারসহ এলাকাবাসী নাঈম ইসলামকে খুঁজে বের করে। পরে জিজ্ঞাবাদ ও ভয়ভীতি দেখালে নাঈম ইসলামের কথা মতো এলাকাবাসী প্রতিবেশী শামছুলের ভুট্টাক্ষেতের ভেতর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আতিকা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে।
এ সময় লোকজনের ভেতর থেকে কৌশলে পালিয়ে যায় নাঈম ইসলাম। পরে উত্তেজিত এলাকাবাসী নাঈমের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় নাঈমের বাবা পান্নু মিয়া ও চাচা ফজলু মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। আর নাঈমের বড় ভাই নাজমুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। বর্তমানে আহত নাজমুল ইসলামকে পুলিশের হেফাজতে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সুপার মো: সারোয়ার আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার রাতে পার্শ্ববর্তী ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থেকে আসামি নাঈম ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত আতিকা আক্তারের মা আরিফা আক্তার পাঁচজনকে আসামি করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করেছে। তবে গণপিটুনিতে নিহতদের পরিবারের কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরো জানান, ময়নাতদন্ত শেষে শিশু আতিকা আক্তার ও গণপিটুনিতে নিহত পান্নু মিয়া ও ফজলু মিয়ার লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।



