ঝালকাঠিতে সন্তানের লাশ নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে বিচার চাইলেন মা

এর আগে ধর্ষণের অভিযোগ এনে লিয়ামনি হৃদয় বেপারীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গত ৯ মার্চ ঝালকাঠি থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত হৃদয় বেপারী পলাতক রয়েছেন।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

Location :

Jhalokati
সন্তানের লাশ নিয়ে মায়ের মানববন্ধন
সন্তানের লাশ নিয়ে মায়ের মানববন্ধন |নয়া দিগন্ত

ঝালকাঠিতে সন্তানের লাশ নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে তার মৃত্যুর বিচার চেয়েছেন এক মা। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ভাউতিতা সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় নিহত শিশুর মা লিয়ামনি আক্তার তার ১৩ মাসের মেয়েসন্তান জেসমিনের লাশ নিয়ে বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে দাঁড়ান। মেয়ের জন্মদাতা প্রেমিক হৃদয় বেপারীর জন্য শিশু জেসমিনের মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ মা লিয়ামনির। মেয়ে হত্যার জন্য হৃদয় বেপারির ফাঁসি চাওয়া হয় মানববন্ধন থেকে।

এ সময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন লিয়ামনি, তার বাবা মো: ফারুক হোসেন মাঝি, মা পলি বেগম, চাচা বেল্লাল মাঝি, ফুপু জোসনা বেগম।

বক্তারা বলেন, ২০২১ সালে একই এলাকার হৃদয় বেপারির সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান লিয়ামনি। প্রেমিক হৃদয় বেপারীর সাথে অবৈধভাবে মেলামেশার একপর্যায়ে গর্ভবর্তী হন লিয়ামনি। গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বরিশালের শেরে-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে মেয়েসন্তানের জন্ম দেন লিয়ামনি। এ সময় প্রেমিক হৃদয় বেপারী তার মামা রফিক হাওলাদার ও নানা মান্নান হাওলাদারের সাথে ছিলেন। হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।

১৯ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কৌশলে নবজাতক শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান হৃদয় বেপারি ও তার স্বজনরা। পরে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা। সেখান থেকে এক ভিক্ষুক শিশুটিকে উদ্ধার করে চাইল্ড হোমে পাঠান। সেখানে বেড়ে ওঠে ওই নবজাতক শিশু।

ঘটনার তিন মাস পরে খবর পেয়ে লিয়ামনির পরিবার ওই শিশুটিকে আনার ইচ্ছে প্রকাশ করে। ডিএনএ পরিক্ষাসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে এ বছরের ৯ মার্চ ওই শিশুকে অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে আসে নিয়ামনি ও তার পরিবার। শেরে-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে শিশু জেসমিনের মৃত্যু হয়।

এর আগে ধর্ষণের অভিযোগ এনে লিয়ামনি হৃদয় বেপারীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গত ৯ মার্চ ঝালকাঠি থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত হৃদয় বেপারী পলাতক রয়েছেন। তবে অভিযুক্ত হৃদয় বেপারীর বাবা আবুল বেপারী তার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, ধর্ষনে অভিযোগে মামলা হয়েছে। আসামি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।