নিখোঁজের দেড় বছর পর পরিবারের সন্ধান পেলো প্রতিবন্ধী যুবক

প্রায় দেড় বছর আগে শারীরিক প্রতিবন্ধী রাজিব মিয়া নিখোঁজ হন। মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দোয়ারাবাজার সীমান্ত অতিক্রম করে তিনি ভারতের সিলং এলাকায় চলে যান।

সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)

Location :

Dowarabazar
প্রতিবন্ধী রাজিব মিয়াকে তার বাবার হাতে তুলে দেয় দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ
প্রতিবন্ধী রাজিব মিয়াকে তার বাবার হাতে তুলে দেয় দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ |নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানা পুলিশের মানবিক উদ্যোগে নিখোঁজের দেড় বছর পর পরিবারের সন্ধান পেলেন রাজিব মিয়া (২৫) নামে এক প্রতিবন্ধী যুবক।

বুধবার (১১ মার্চ) দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ওই যুবককে তার পরিবারের হাতে তুলে দেন।

প্রতিবন্ধী রাজিব মিয়া ভোলার সদর থানার নবীপুর এলাকার বাসিন্দা রইজল মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে শারীরিক প্রতিবন্ধী রাজিব মিয়া নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দোয়ারাবাজার সীমান্ত অতিক্রম করে রাজিব ভারতের সিলং এলাকায় চলে যান। সেখানে স্থানীয় ভারতীয় নাগরিকরা তাকে দেখতে পেয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও ভারতীয় পুলিশের হাতে তুলে দেন।

পরে ভারতীয় প্রশাসন বিষয়টি বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও পুলিশের সাথে যোগাযোগ করলে বিজিবি ও দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশে ফেরত আনে। দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ রাজিবকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

তবে মানসিক ভারসাম্যহীন থাকায় তিনি নিজের পরিচয় স্পষ্টভাবে জানাতে পারেননি। পরে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার ও পুলিশের অন্য সদস্যরা বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ ও চার দিনের অনুসন্ধানে তার পরিবারের সন্ধান পান। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বুধবার তার বাবা রইজল মিয়ার হাতে তুলে দেয়া হয় তাকে।

এ মানবিক উদ্যোগে দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদারের দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন দোয়ারাবাজার থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মোহন রায়।

এদিকে, দীর্ঘ দেড় বছর পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা ও পরিবারের সদস্যরা। তারা দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ও বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘থানার পুলিশ সদস্যদের দায়বদ্ধতা, দেশপ্রেম আর বিচক্ষণতায় শারীরিক প্রতিবন্ধী এ যুবককে তার পরিবারের হাতে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়। মানবতার সেবায় মহৎ এই কাজ সম্পন্ন করতে পারায় নিজের প্রতি এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছে।’

তিনি থানা পুলিশের সব সদস্যদেরকে ধন্যবাদ জানান।