বাগাতিপাড়া টানা ১৫ দিন জ্বালানি তেলশূন্য, বিপাকে কৃষকরা

গত ১৫ দিন ধরে ডিলাররা কোনো তেল পাচ্ছেন না। এতে পুরো উপজেলায় দেখা দিয়েছে তেলের তীব্র সঙ্কট।

মো: আব্দুল আওয়াল, বাগাতিপাড়া (নাটোর)

Location :

Bagatipara
ডিজেল পাচ্ছেন না বাগাতিপাড়ার ডিলাররা
ডিজেল পাচ্ছেন না বাগাতিপাড়ার ডিলাররা |নয়া দিগন্ত

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় টানা ১৫ দিন জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মৌসুমি ফসল ধান, আখসহ বিভিন্ন ফসলের জমিতে সেচ, ফসল মাড়াই এবং নতুন বীজ বপনের জন্য জমি চাষে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। এজন্য স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চারটি ডিলার পয়েন্টের মাধ্যমে কৃষকসহ সাধারণ মানুষ সরাসরি ডিজেল তেল সংগ্রহ করে থাকেন। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে ডিলাররা কোনো তেল পাচ্ছেন না। এতে পুরো উপজেলায় দেখা দিয়েছে তেলের তীব্র সঙ্কট।

ডিজেল সঙ্কটের কারণে কৃষকদের সেচ পাম্প বন্ধ। একই সাথে স্যালো মেশিনসহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র চালানোও সম্ভব হচ্ছে না। এতে রবি মৌসুমের বিভিন্ন ফসল উত্তোলন ও মাড়াই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগাতিপাড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে মোট ৫৬৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমি সেচের জন্য ডিজেলচালিত সেচপাম্পের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়াও রবি মৌসুমে গম পাঁচ হাজার ২৯০ হেক্টর, সরিষা ৪৫০ হেক্টর, মসুর ৬৬০ হেক্টর ও খেসারি ডাল ২৯০ হেক্টর মাড়াইয়ের কাজও সম্পূর্ণভাবে ডিজেলচালিত শ্যালোমেশিনের ওপর নির্ভরশীল।

উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের কৃষক মালেক আলী বলেন, ‘ধানের জমিতে নিয়মিত সেচ দেয়া খুবই জরুরি। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে তেল না পাওয়ায় সেচপাম্প চালাতে পারছি না।’

এভাবে চলতে থাকলে ধানের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্ক্ষা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘জেলা সদরে গিয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দূর থেকে তেল কিনে আনা আমাদের মতো প্রান্তিক কৃষকদের জন্য খুবই কষ্টকর ও ব্যয়বহুল। আবার জমিতে রবি শস্য পেকে আছে কিন্তু মাড়াই করার যন্ত্র চালানোর জন্যও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সামনে ঝড়-বৃষ্টির মৌসুম, সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

তাই দ্রুত তেল সরবরাহ করার জন্য কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কমনা করেন তিনি।

বিলগোপালহাটি গ্রামের জমি চাষযন্ত্র পাওয়ার টিলার চালক সুজন আলী বলেন, ‘উপজেলার কোথাও ডিজেল তেল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিনই অনেক মানুষ জমি চাষ করার জন্য আসছে, কিন্তু তেল না থাকায় জমি চাষ করে দিতে পারছি না। ফলে কৃষকরা ফসল বপন করতে পারছে না।’

উপজেলার বিহাড়কোল বাজারের তেলের ডিলার মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ফজলুর রহমান বলেন, ‘প্রায় ১৫ দিন থেকে ডিজেল ও পেট্রোল সরবরাহ না থাকায় গ্রাহকদের দিতে পারছি না। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে লিখিতভাবেও জানানো হয়েছে। ইউএনও মহোদয়ের মাধ্যমে বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছেও জানানো হয়েছে। আবার যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট মহা-পরিচালক বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।’

এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ভবসিন্ধু রায় বলেন, ‘ডিজেল সঙ্কটের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারাও বিষয়টি অবগত আছেন।’

বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলাউদ্দিন বলেন, ‘ডিজেল সঙ্কটের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’