দুর্বৃত্তরা বাঁচতে দিলো না মকবুলকে : মাগফেরাত কামনায় দোয়ার আয়োজন

দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত মকবুল হোসেনের (৫৫) কুশিয়ারা বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ ঘরেই আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শুক্রবার (৩ জুলাই) মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করেন পরিবারের লোকজন।

Location :

Daudkandi
দুর্বৃত্তরা বাঁচতে দিলো না মকবুলকে : মাগফেরাত কামনায় দোয়ার আয়োজন
দুর্বৃত্তরা বাঁচতে দিলো না মকবুলকে : মাগফেরাত কামনায় দোয়ার আয়োজন |নয়া দিগন্ত

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

দাউদকান্দি উপজেলার কুশিয়ারা বেড়িবাঁধে বসবাসরত সিএনজি ড্রাইভার মকবুল হোসেনকে বাঁচতে দিলো না দুর্বৃত্তরা; এমনকি পরিবারের অন্যদেরও মেরে ফেলতে চেয়েছিল জাহাঙ্গীর বাহিনী।

দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত মকবুল হোসেনের (৫৫) কুশিয়ারা বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ ঘরেই আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শুক্রবার (৩ জুলাই) মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করেন পরিবারের লোকজন।

মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা নাজমুল হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্যসহ প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়রা।

দুলাল সরকারের মৎস্য প্রকল্পের পাশে বেড়িবাঁধে বসবাস করা মকবুল হোসেনের সাথে গত ২৩ জুন বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে একসময়ের সীমানার বসতি জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনী।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাটি কাটার অজুহাতে ঝগড়া বাধিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জাহাঙ্গীর বাহিনী হামলা চালায়। এতে মকবুল হোসেনসহ অনেকেই আহত হন। আহতদের প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (গৌরীপুর) নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩ দিন পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ জুন মকবুল হোসেন মারা যান।

হামলার ঘটনায় মুরাদনগরের জাহাপুর থেকে এসে বর্তমানে কুশিয়ারা এশিয়ার পাড়ে বসবাসরত হানিফের ছেলে জাহাঙ্গীর (৫০), জাহাঙ্গীরের দুই ছেলে নাছির (২৭) ও বাবু (২০), দুই মেয়ে নুরনাহার (২৪) ও জান্নাত (১৬), ভাগনে রাব্বি (২০—পিতা হান্নান, বগুড়া; বর্তমানে এশিয়ার পাড় বাসিন্দা) এবং জাহাঙ্গীরের স্ত্রী শাহনাজকে (৪০) অভিযুক্ত করে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মৃত মকবুলের বড় ছেলে ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।

হামলার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিএনজি ড্রাইভার মো: মকবুল হোসেন মৃত্যুবরণ করলে তাকে কুশিয়ারাস্থ সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

অভিযুক্তদের হামলায় মকবুলের ছেলে ইমরান (২৬), মেয়ে মিনা বেগম (৩২), ভাগনি লামিয়া (১৬), বাবা ইব্রাহিম হোসেন এবং ইমরানের স্ত্রী তানজিনা বেগমও আহত হন।

উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরের ছেলে নাছির ওমান প্রবাসী। সে গত ২২ জুন বাড়ি এসে ২৩ জুনের মারামারিতে নেতৃত্ব দেয়।

এশিয়ার পাড়ের বাসিন্দা ও জাহাঙ্গীরের প্রতিবেশী সহর আলী সরকার জানান, তাদের সাথে আমাদের ভালো সম্পর্ক বা বনাদতি নেই।

এদিকে কুশিয়ারা গ্রামের সন্তান ও ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো: দুলাল সরকার বলেন, ‘আমার মাছের প্রজেক্ট বা মাটি কাটার সাথে এই মারামারি বা নিহত হওয়ার কোনো যোগসাজশ নেই। জাহাঙ্গীর ও মকবুল সরকারি জায়গায় বেড়িবাঁধে বসবাস করত। জাহাঙ্গীর এশিয়ার পাড়ে নতুন বাড়ি করে কয়েক বছর আগে চলে গেছে, কিন্তু তার আগের দখল এখনো ছাড়েনি। এছাড়া আত্মীয়তার বিরোধসহ অনেক ঝামেলা দুই পরিবারের মাঝে চলে আসছিল। এসবের জের ধরেই এই মারামারি, নিহত ও আহতের ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি তদন্তপূর্বক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

কুশিয়ারা গ্রামের আরেক সন্তান ও কুমিল্লা উত্তর জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো: লিয়াকত আলী খান বলেন, ‘বিষয়টি যেহেতু আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই আমরা চাই আদালতই এর সঠিক বিচার করুক।’

তবে এ পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় চরম হতাশাগ্রস্ত ভুক্তভোগী পরিবার।

মামলার বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো: সামছুল আলম বলেন, ‘আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে। যেকোনো সময় ভুক্তভোগী পরিবারসহ মিডিয়া বন্ধুরা সুসংবাদ পাবেন ইনশাআল্লাহ।’