খালিয়াজুড়িতে অতিবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে অধিকাংশ কৃষকের ধান

নেত্রকোনা জেলার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুড়িতে অতিবৃষ্টিতে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে অধিকাংশ কৃষকের ধান। একাধারে সাত দিনের অধিক সময় টানা বৃষ্টি হওয়ার ফলে, মাঠ থেকে নিয়ে আসা কাটা ধানের ঝাক/ টাল এ রকমভাবে মাঠের মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে।

খালিয়াজুড়িতে অতিবৃষ্টিতে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে অধিকাংশ কৃষকের ধান
খালিয়াজুড়িতে অতিবৃষ্টিতে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে অধিকাংশ কৃষকের ধান |নয়া দিগন্ত

খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা

নেত্রকোনা জেলার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুড়িতে অতিবৃষ্টিতে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে অধিকাংশ কৃষকের ধান। একাধারে সাত দিনের অধিক সময় টানা বৃষ্টি হওয়ার ফলে, মাঠ থেকে নিয়ে আসা কাটা ধানের ঝাক/ টাল এ রকমভাবে মাঠের মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। তারপর ধানের পঁচা গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকার জনগণ। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।

আরো জানা যায়, খালিয়াজুড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসার মাঠ, গ্রাম বা পাড়ার উচু জায়গায় সহন সরকারি রাস্তা ঘাটের উপর বৃষ্টিতে ভিজা পঁচা ধান ও ধানের কুটা বা খেড়বন শুকানোর কাজে ব্যস্ত সারা উপজেলার কৃষক জনতা।

নূরপুর বোয়ালী গ্রামের কৃষক আবু জাহেদ আহমেদের ছেলে মো: আহসানুল হক ও মরহুম আব্দুল হোসনের ছেলে মো: মোফাজ্জল মিয়া বলেন, ‘আমারা প্রত্যেকেই দুই একর (২০০ দুইশত শতাংশ) করে জমি করে ছিলাম। এর মধ্যে ৫০% ধান কাটা হয়েছে বাকি ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কাটা ধান চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। আমারা খুবই কষ্টে আছি বলে তারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানান।

খালিয়াজুড়ি উপজেলায় বিএনপি সভাপতি ও গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আব্দুর রউফ স্বাধীন, সাধারণ সম্পাদক মো: মাহবুবুর রহমান তালুকদার কেষ্টু, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো: ইসমাইল হোসেন এবং কৃষক দলের সেক্রেটারি পান্ডব সরকার যৌথভাবে বলেন, এ বছর খালিয়াজুড়ি উপজেলায় কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

তারা জানান, সারা উপজেলায় প্রায় ৫৫% হতে ৬০% ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে তিন মাসের খাদ্য সহয়তা প্রদানের লক্ষে প্রতিটি কৃষকের তালিকা করা হচ্ছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, খালিয়াজুড়িতে ৬ ইউনিয়নের ৫৪টি ওয়ার্ডের ৮৯টি হাওর ২০২৩২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান লাগানো হয়। এর মধ্যে ১১৩৩৬ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে, যার শতকরা প্রায় (৫৫% ধান) কাটা হয়েছে বাকি ধানের ৪০% ধান নষ্ট হয়েছে এবং ৫% ধান এখনো কাটার বাকি আছে।

কৃষি কর্মকর্তা মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কাটা ধানের মধ্যে প্রায় ১৫% হতে ১৮% ধানের চারা গজিয়ে নষ্ট হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। তবে এখন থেকে ভালো রোদ হলে কৃষকের বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া ধানগুলো তাড়াতাড়ি শুকনো যাবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, পরবর্তী মৌসুমে ধান শুকনোর জন্য অত্র উপজেলা ড্রায়ার মেশিন সরবরাহ করে স্থাপন করিলে কৃষকদের ধান শুকানো সহজ হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদির হোসেন শামীম বলেন, বাড়িতে ধান কেটে নিয়ে আসার পরেও বৃষ্টির কারণে শুকানো যাচ্ছে না। এটা খুবই দুঃখ জনক ঘটনা, আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন এবং রহমত দান করুন, যাতে আমাদের সকল কৃষকরা তাদের কেটে আনা ধানগুলো তাড়াতাড়ি শুকাতে পারেন। পরবর্তী মৌসুমে ধান শুকনোর জন্য ড্রায়ার মেশিন সরবরাহ করার জন্য আমাদের মাননীয় এমপির মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।