পিরোজপুরের কাউখালীতে অধিকাংশ ওষুধ ফার্মেসির মালিকরা ক্রেতাকে ক্যাশমেমো প্রদান করেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তা সাধারণ। ওষুধের গায়ে দাম উল্লেখ না থাকার সুযোগে বিক্রেতারা বাড়তি দাম নিচ্ছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার অনেক ফার্মেসিতে ক্যাশমেমোর বিষয়ে জানতে চাইলে অধিকাংশ ব্যবসায়ী ক্যাশমেমো দেখাতে পারেনি। অধিকাংশ ফার্মেসি খুঁজে কোনো ক্যাশমেমো পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেছেন ভোক্তা সাধারণ।
ওষুধ ব্যবসায়ীরা জানান, আমাদের কাছ থেকে যারা ওষুধ কিনে তাদের মধ্যে অধিকাংশ ক্রেতা ক্যাশমেমো চায় না, যদি কোনো ক্রেতা ক্যাশ মেমো চায় তাহলে আমরা দিয়ে থাকি।
আবুল বাশার ও সাইফুল ইসলাম নামে দু’জন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের নিয়মিত ওষধ কিনতে হয়। আমরা যখন একটি ওষুধের ফাইল ও প্যাকেটজাত ঔষধ ক্রয় করি, তখন তার গায়ে ওষুধের মূল্য লেখা দেখে তার দাম বুঝতে পারি। কিন্তু অধিকাংশ ওষুধই পাতা বা স্ট্রিপ হিসেবে কিনতে হয়, যেখানে কোনো প্যাকেট থাকে না। যে কারণে ঐ ওষুধের প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে আমরা কিছুই জানতে পারি না। এর ফলে ভোক্তাদের একই ওষুধ বিভিন্ন ফার্মেসিতে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যে কিনতে হয়।
একই ওষুধ একেক জায়গায় একেক দাম রাখায় ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অধিকাংশ ভোক্তা। মাহফুজ নামে এক ব্যবসায়ী জানান, একটি ওষুধের দোকান থেকে এক হাজার টাকার ওষুধ কেনার পর অব্যবহৃত কিছু ওষুধ ফেরত দিতে গেলে তখন সঠিক মূল্যে ফেরত নেয়নি।
সচেতন নাগরিকরা অভিযোগ করেন, কিছু কোম্পানির নিম্নমানের ওষুধের গায়ে অনেক বেশি মূল্য লেখা থাকে। এসব নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করলে বিক্রেতাদের অনেক বেশি লাভ হয়। তাই ব্যবসায়ীরা সহজ-সরল মানুষের কাছে এ ওষুধগুলো বেশি বিক্রি করে।
এ ব্যাপারে পিরোজপুরের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক দেবাশীষ রায় বলেন, সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্যাশমেমো থাকা বাধ্যতামূলক। ভোক্তারা চাওয়া মাত্র বিক্রেতা ক্যাশমেমো দিতে বাধ্য থাকবেন। কোনো ব্যবসায়ী ক্যাশমেমো দিতে অস্বীকার করার অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



