দিনমজুর শফিকুলের আর্তনাদ

সব পুড়ে শেষ, এখন আমরা কোথায় যাব?

‘আমার সব স্বপ্ন চোখের সামনে শেষ হয়ে গেল। দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাই। তিন মেয়ের মধ্যে একজনকে বিয়ে দিয়েছি। বাকি দুই মেয়ে স্কুলে পড়ে। আগুনের শিখা আমার সহায়-সম্বল কেড়ে নিয়েছে।’

সেকান্দার আলী, মোংলা (বাগেরহাট)

Location :

Mongla
দিনমজুর শফিকুলের বাড়ি আগুনে পড়ে গেছে, ধ্বংসস্তুপ থেকে ধোয়া বের হচ্ছে।
দিনমজুর শফিকুলের বাড়ি আগুনে পড়ে গেছে, ধ্বংসস্তুপ থেকে ধোয়া বের হচ্ছে। |নয়া দিগন্ত

এক সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার সময়ও শফিকুল শেখ কল্পনা করতে পারেননি, বাড়ি ফিরে তিনি কেবল ধ্বংসস্তূপ দেখবেন। তার সাজানো সংসার, মাথা গোঁজার ঠাঁই—সবই এখন ছাই।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোংলা উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের চৌরিডাঙ্গা গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এই দিনমজুর।

ঘটনার সময় বাড়িতে পরিবারের কেউ ছিলেন না। শফিকুলের স্ত্রী তাদের দুই মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতে বাইরে গিয়েছিলেন। আর শফিকুল ছিলেন স্থানীয় নদীতে মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত। বাড়িতে কেউ না থাকায় আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত বসতঘর ও রান্নাঘর গিলে ফেলে।

স্থানীয়রা প্রায় ৪০ মিনিট চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে বসতঘর, রান্নাঘর ও ঘরের ভেতরের আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আর্তনাদ করে শফিকুল শেখ বলেন, ‘আমার সব স্বপ্ন চোখের সামনে শেষ হয়ে গেল। দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাই। তিন মেয়ের মধ্যে একজনকে বিয়ে দিয়েছি। বাকি দুই মেয়ে স্কুলে পড়ে। আগুনের শিখা আমার সহায়-সম্বল কেড়ে নিয়েছে। আমি এখন নিঃস্ব, ঘর ছাড়া আমাদের যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা নেই।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তুষার পোদ্দার বলেন, ‘শফিকুল একজন অত্যন্ত সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ। অগ্নিকাণ্ডে তার প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে পরিবারটি এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। তার পক্ষে নতুন করে ঘর তোলা অসম্ভব। এই বিপদে তার পাশে দাঁড়াতে আমি উপজেলা প্রশাসনসহ সামর্থ্যবানদের প্রতি মানবিক আহ্বান জানাচ্ছি।’

নিজেদের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে শফিকুল এখন সরকারি-বেসরকারি সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন। একটি ছোট ঘর তৈরি করে মেয়েদের নিয়ে বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়েছেন এই হতভাগ্য দিনমজুর।