সিলেটে অপরাধের তৎপরতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের আমদানি রফতানির তুলনায় বেশি। পৃথিবীর অনেক দেশেই আমদানি বেশি এবং রফতানি তুলনামূলকভাবে কম। এটি অস্বাভাবিক বিষয় নয়।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
কথা বলছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
কথা বলছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘সিলেটে মাদকের আনাগোনা, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরের দিকে সিলেট পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে নবাগত পুলিশ কমিশনারের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘সিলেটের আইনশৃঙ্খলা কেমন আছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা কেমন দেখতে চাই। প্রথম হলো, সিলেটে আমরা কোনো মাদকের আনাগোনা দেখতে চাই না। দ্বিতীয়ত, সিলেটে আমরা কোনো অনলাইন জুয়া দেখতে চাই না। সিলেটে কোনো কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আমরা দেখতে চাই না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে এসএমপির কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি যে আগামী দিনে মাদক, অনলাইন জুয়া এবং কিশোর গ্যাংয়ের কোনো তৎপরতা আমরা সিলেটে দেখতে চাই না।’

এসএমপি কমিশনার তাকে আশ্বস্ত করেছেন উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এসব সমস্যা নির্মূলে আইনের মধ্য থেকে যা করা দরকার, তিনি তা করবেন।’

এসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই শুল্ক শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। বিভিন্ন দেশের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ (পারস্পরিক শুল্ক) আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের বাইরে বর্তমানে ১০ শতাংশ ট্যারিফ প্রয়োগ করা হয়েছে, যা সর্বনিম্ন হারের মধ্যে একটি।

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহের কথাও জানিয়ে মন্ত্রীর বলেন, ‘ভারতের যেসব ব্যবসায়ী বাংলাদেশে এসেছেন, তাদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছেন। তারা বাংলাদেশ ও ভারতের স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘স্থলবন্দরগুলো বন্ধ থাকার কারণে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাঁচামালের মূল্য বেড়ে যায় বলে তারা জানিয়েছেন।’

এ ছাড়া বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সাথে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির জন্য বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সাথে একটি ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব তারা এফবিসিসিআইয়ের নেতৃবৃন্দের কাছে দিয়েছেন।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে তাদের কিছু প্রস্তাব ও পরামর্শ রয়েছে। সেগুলো সরকার বিবেচনায় নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বর্তমানে ২৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের আমদানি রফতানির তুলনায় বেশি। পৃথিবীর অনেক দেশেই আমদানি বেশি এবং রফতানি তুলনামূলকভাবে কম। এটি অস্বাভাবিক বিষয় নয়। ’

তবে বাংলাদেশের রফতানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘রফতানির পরিমাণ বাড়লে আমদানির পরিমাণও বাড়বে। রফতানি ও আমদানি মিলিয়ে দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ আরো বহুগুণ বাড়ানো প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতির আকারের সাথে বাণিজ্যের পরিমাণের সামঞ্জস্য থাকা দরকার।’

এ প্রসঙ্গে ভিয়েতনামের উদাহরণ দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘ভিয়েতনামের আমদানি-রফতানি মিলিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণ এখন প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার।’

বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারের সাথে এটি ঠিক সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চাকরিজীবীদের জীবনমান ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রশ্নটি অর্থমন্ত্রীর কাছে করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় অর্থমন্ত্রীর প্রশ্ন আপনি আমার কাছে নিয়ে এসেছেন। এই প্রশ্নের উত্তর তিনিই দেবেন।’

মুদ্রাস্ফীতির চাপ যাতে না পড়ে, সেসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই অর্থমন্ত্রী বিষয়টি প্রণয়ন করবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এরআগে তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ ও তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সাথে দীর্ঘ বৈঠক করেন।

বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী, এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরীও বৈঠকে ছিলেন।