আলোচিত বিলাসপুর থেকে বিপুল সংখ্যক ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

উল্লেখ্য, বিলাসপুরে যুগ যুগ ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে।

মো: বোরহান উদ্দিন রব্বানী, শরীয়তপুর

Location :

Shariatpur
শরিয়তপুরের বিলাসপুর থেকে বিপুল পরিমাণ ককটেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী
শরিয়তপুরের বিলাসপুর থেকে বিপুল পরিমাণ ককটেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী |নয়া দিগন্ত

শরীয়তপুরের জাজিরার বহুল আলোচিত বিলাসপুরে যৌথ বাহিনী ডগ স্কোয়াডসহ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র, ককটেল বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোর ৪টা থেকে জাজিরার বিলাসপুর ও পার্শ্ববর্তী নড়িয়ার রাজনগর ইউনিয়নের মুলাই বেপারী এবং চেরাগ আলী বেপারী কান্দিসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪৫টি ককটেল, ককটেল বানানোর সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী।

এসময় বিলাসপুরের মুলাই বেপারী কান্দির বাবুল বেপরীর বাড়ির পশ্চিম পাশে মজিদ বেপারীর বাড়ির বাঁশঝাড়ে ১২টি, নুরুজ্জামান বেপারীর বাড়ির পশ্চিম পাশে বসতঘরের বাইরের কানায় ১২টি, শামচুল বেপারীর বাড়ির পাশে বাঁশঝাড় থেকে ১২টি ও চেরাগ আলী বেপারী কান্দির শাজাহান ছৈয়ালের বাড়ির পাশে ৯টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। যেগুলো পরে সংঘর্ষের প্রস্তুতি হিসেবে প্লাস্টিকের বালতিতে রাখা হয়েছিল।

এ অভিযানে ৫০-৬০ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি শতাধিক সেনা সদস্য অংশ নেন।

এছাড়াও অভিযানে বিপুল পরিমাণ ককটেল বোমা তৈরির সরঞ্জাম, দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র ও একটি খেলনা ড্রোন উদ্ধার করা করা হয়। অভিযানে তিনজন নারী ও একজন পুরুষকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত ককটেল বোমা ও ককটেল বোমা তৈরির সরঞ্জাম পরে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের মাধ্যমে ডিসপোজ করা হবে এবং দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সংরক্ষণ করে রাখার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অভিযান শেষে বিলাসপুর কুদ্দুস বেপারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) ক্রাইম অ্যান্ড অবস তানভীর হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

অভিযানে জাজিরা ক্যান্টনমেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের সেনা অফিসার ও শরীয়তপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) অর্থ ও প্রশাসন শরিফ উজ জামানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা বিলাসপুরের সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান।

উল্লেখ্য, বিলাসপুরে যুগ যুগ ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৮ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ভোরে নির্জন একটি ঘরের মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিক একজন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজন মারা যায়। ওই ঘটনায় জাজিরা থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বিবাদমান দু’টি গ্রুপের ৫৩ জনের নাম উল্লেখপূর্বক আরো অজ্ঞাত ১৪০-১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।