রাজশাহীর দুর্গাপুরে পেঁয়াজ চাষিরা এবার বড় ধরনের সঙ্কটে পড়েছেন। মৌসুমের শুরুতে ভালো দামের আশায় চাষে আগ্রহী হলেও প্রায় দেড় মাস থেকে বাজারে পেঁয়াজের দামে ধস নেমেছে। এতে করে উৎপাদন খরচই উঠছে না, উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ টাকায়, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। ক্রেতার তুলনায় বাজারে বিক্রেতার সংখ্যা বেশি হওয়ায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় দুই হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরি, সেচ ও পরিবহনসহ প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। ফলে প্রতিমণে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
পাশের বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক আসলাম আলী বলেন, ‘প্রতি মণে উৎপাদন খরচ পড়েছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু এখন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে।’
গোপালপুর গ্রামের কৃষক আশেক উদ্দিন জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যাদের ফলন ভালো হয়েছে তাদের খরচ কিছুটা কম পড়েছে। কিন্তু যাদের ফলন কম হয়েছে তারা আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এক মাস আগেও ভালো দাম ছিল, হঠাৎ করে বাজারে দাম পড়ে গেছে।’
তাহেরপুর বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী কুদ্দুস মিঞা বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে বাজারে একই অবস্থা চলছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০ থেকে ২৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে প্রতি কেজিতে এক থেকে দুই টাকা লোকসান হচ্ছে।’
দুর্গাপুর উপজেলায় সপ্তাহে কয়েকটি বড় পেঁয়াজের হাট বসে। রোববার ও বুধবার সিংগাহাট, সোম ও শুক্রবার কানপাড়া এবং পাশের বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর হাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যান। তবুও চাষিদের অভিযোগ, তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ লোকসানের মধ্যেই বিক্রি করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম মূলত বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সাধারণত মৌসুমের শুরুতে দাম ভালো থাকে, তবে এবার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। চাহিদা কম থাকায় দামও কম। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে ধার-দেনা পরিশোধের জন্য কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। সম্ভব হলে কৃষকদের কিছুদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’



