মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ। রোববার (৩ এপ্রিল) কারাগারের কঠোর নিরাপত্তা ও নিয়ম-কানুনের মধ্যেও এক বন্দি বাবাকে তার মৃত সন্তানের শেষ মুখ দেখার সুযোগ করে দেয়া হয়। এ সময় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে তৈরি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা দুলাল, যিনি বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার ছেলে আব্দুল্লাহ শনিবার (২ মে) একটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। আকস্মিক এই মৃত্যুর খবরে পুরো পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। কারাগারে থাকা বাবা দুলালও সন্তানের মৃত্যুর সংবাদে ভেঙে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার আকুতি জানান তার স্ত্রী।
পরিবারের এই আবেদন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে কারা মহাপরিদর্শকের (আইজি প্রিজন্স) মৌখিক নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুনের তত্ত্বাবধানে কারাগারের প্রধান ফটকে নিয়ে আসা হয় নিহত আব্দুল্লাহর লাশ। নিরাপত্তা বিধি মেনে সেখানে বন্দি দুলালকে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দেয়া হয়।
কারাগারের গেইটে সেই দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ছেলের লাশ দেখে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারেননি দুলাল। অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি। উপস্থিত কারারক্ষী ও স্বজনদের অনেকেই এই মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইন ও নিরাপত্তা বজায় রেখে মানবিক দিক বিবেচনায় এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বন্দিদের জীবনেও যে আবেগ ও সম্পর্কের মূল্য রয়েছে, এই ঘটনার মাধ্যমে সেটিই তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অপরাধের শাস্তি ভোগ করলেও একজন মানুষ তার পারিবারিক অনুভূতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয় এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরো বাড়ায়।
এ ঘটনা প্রমাণ করে, কঠোর নিয়মের মধ্যেও মানবিকতা জায়গা করে নিতে পারে। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।



