হরিপুরে উচ্ছেদের ৫ মাসে পরে সক্রিয় দখলচক্র

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের কাপনা ব্রীজ সংলগ্ন স্থান থেকে প্রায় ৫০০ গজ উত্তর অংশে সড়কের দু’পাশের জায়গায় উৎসবমুখর পরিবেশে পাকা ঘর ও টিনশেডের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

জৈন্তাপুর (সিলেট) সংবাদদাতা

Location :

Sylhet
অবৈধ স্থাপনা
অবৈধ স্থাপনা |নয়া দিগন্ত

সিলেটের জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজারে আবারো দখলারদের দৌরাত্ম্য শুরু হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা এবং মহাসড়কের দু’পাশ দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা। পাঁচ মাস আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে পুরোনো দখলচক্র পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে জনগুরুত্বপূর্ণ সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের এ অংশে ফের বিশৃঙ্খলা ও তীব্র যানজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের কাপনা ব্রীজ সংলগ্ন স্থান থেকে প্রায় ৫০০ গজ উত্তর অংশে সড়কের দু’পাশের জায়গায় উৎসবমুখর পরিবেশে পাকা ঘর ও টিনশেডের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব জায়গা ভরাট ও দখল বন্ধে সওজের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দখলদাররা এর তোয়াক্কা করছেন না। নিজেদের ইচ্ছেমতো ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, উচ্ছেদ অভিযানটি ছিল অনেকটাই আনুষ্ঠানিক। অভিযান শেষ হওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যেই আগের দখলদাররা পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করে।

তাদের মতে, রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণেই এসব অবৈধ কার্যক্রম বারবার ফিরে আসে। যারা আগে দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করেছিল তারাই আবার নতুন করে এখন দোকানপাট নির্মাণ করছে। এ বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নেবে। আমাদের কিছু বলার নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যানজট সমাধানের জন্য পাঁচ মাস আগে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যৌথ পরিচালনায় অভিযান চালিয়ে হরিপুর বাজার এলাকার মহাসড়কের দু’পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও তা টেকসই হয়নি।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আবারো স্থানীয় দখলদারদের ছত্রছায়ায় পুনরায় সওজের জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মানের প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। এতে বাজারের অংশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

প্রতিদিন জাফলংগামী পর্যটনবাহী দূরপাল্লার বাসসহ পণ্যবাহী সহশ্রাধিক যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে। বিগত দিনে হরিপুর বাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ফলে বাজার অংশে যানজট ছিল না, বর্তমানে আবারো যদি অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠে তাহলে পুনরায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে এবং দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে দখলদাররা মোটা অঙ্কের অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এবং প্রতি মাসে দোকানগুলো থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় করছে। এতে একদিকে যেমন কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি হাতছাড়া হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রাণী দেব বলেন, ‘সরকারি জমি বা মহাসড়কের জায়গা দখল করে কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেয়া হবে না। আমরা খুব শীঘ্রই হরিপুর বাজারে একটি বড় ধরনের সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করব। যারা এ দখলের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’