ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো: গোলাম মাসুম ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
বুধবার দুপুরে ত্রিশাল উপজেলার কাঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়িয়া এলাকায় একটি বালুর ঘাটে ইজারাদারের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ইউএনওর বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কথাবার্তার একপর্যায়ে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী ওই কর্মীকে পরপর দু’টি থাপ্পড় দেন। পরে র্যাবের এক সদস্য ওই কর্মীকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে ইউএনও তার হাত থেকে একটি লাঠি নিয়ে ওই কর্মীকে কয়েকবার আঘাত করেন। এ সময় ত্রিশাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দিনভর ইউএনও তার কার্যালয়ে ছিলেন না। ফলে বিভিন্ন সরকারি কাজে কার্যালয়ে আসা সেবাপ্রার্থীদের অনেকে ফিরে যান। তবে তার অনুপস্থিতির কারণ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
এদিকে ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয়ভাবে সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ত্রিশাল পৌর এলাকার একটি হাসপাতালে সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইজারাদারের লোকজন ও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের একপর্যায়ে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী সেখানে উপস্থিত হয়ে আগের দিনের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, ‘আইনসঙ্গত কার্যক্রম চলাকালে হঠাৎ এমন একটি ঘটনা ঘটেছে এবং এ জন্য দুঃখিত।’
তবে স্থানীয় প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এমন আচরণের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। এর মধ্যেই তাকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত জানানো হলো।


