আশুলিয়ায় চাঁদা না পেয়ে ২ জনকে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ

পাথালিয়া ইউনিয়নের বড় ওয়ালিয়া মৌজার আরএস ১৭৭৪ নম্বর দাগের ১০৬ শতাংশ জমির মধ্যে ২২ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

তুহিন আহামেদ, আশুলিয়া (ঢাকা)

Location :

Savar
হামলায় আহত দুইজন
হামলায় আহত দুইজন |নয়া দিগন্ত

ঢাকার আশুলিয়ায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দুই ব্যক্তির ওপর হামলা, মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। আহতদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নুরু মিয়া বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

‎শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার এসআই ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো: শফিউল আলম সোহাগ।

‎হামলায় মো: নুরু মিয়া (৫৭) ও তার ভাগ্নে মো: জুয়েল (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন।

‎অভিযুক্তরা হলেন ঢাকার আশুলিয়ার বড়ওয়ালিয়া এলাকার মরহুম মোখলেছুর রহমানের ছেলে মো: সোহাগ (৩০), মো: শাকিল আহম্মেদ (৩৭), একই এলাকার মো: রহিম উদ্দিনের ছেলে মো: রবিন সিকদার (৩০), মো: নাজমুল হাসান ওরফে নাজিম (৪০), মরহুম রইজ উদ্দিনের ছেলে মো: নেদু মিয়া (৫৫), পানধোয়া এলাকার মরহুম নুর ইসলামের ছেলে মো: রনি (৪৫) এবং আল মামুন আজিজের ছেলে মো: রানা (৩৭)। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরো চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের বড় ওয়ালিয়া মৌজার আরএস ১৭৭৪ নম্বর দাগের ১০৬ শতাংশ জমির মধ্যে ২২ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। নুরু মিয়ার দাবি, আব্দুল মান্নান, আব্দুর রহমান ও আব্দুল আহাদের সাথে ক্রয়সূত্রে তিনি ওই জমির মালিক এবং দীর্ঘদিন ধরে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।

‎তবে কিছুদিন ধরে অভিযুক্তরা ওই জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় এক মাস ধরে তার কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নুরু মিয়া তার ভাগ্নে জুয়েলকে সাথে নিয়ে বড় ওয়ালিয়ায় নিজেদের জমি দেখতে যান। এ সময় সোহাগ, শাকিল, রবিন, নাজিম, নেদু, রনি, রানাসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন লোহার রড, লাঠি, রামদা, হাতুড়ি ও জিআই পাইপসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে সোহাগ নুরু মিয়ার কাছে পুনরায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এসময় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা নুরু মিয়া ও তার ভাগ্নে জুয়েলের ওপর হামলা চালায়।

‎একপর্যায়ে আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

‎আশুলিয়া থানার জাতীয় স্মৃতিসৌধ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (এসআই) মো: শফিউল আলম সোহাগ বলেন, ‘চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’