ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন

১৯১৮ সালে চালু হওয়া ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন আজ ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্টেশনের যাত্রী বিশ্রামাগার ‘ডাস্টবিনে’ রূপান্তরিত হয়ে গেছে। পুরো স্টেশন জুড়ে ছড়িয়ে আছে আবর্জনা। রেললাইনের মাঝে স্তুপাকারে পড়ে আছে ময়লা, আর দুর্গন্ধে স্টেশনে প্রবেশ করাও কষ্টসাধ্য।

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন
ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন |নয়া দিগন্ত

১৯১৮ সালে চালু হওয়া ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন আজ ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্টেশনের যাত্রী বিশ্রামাগার ‘ডাস্টবিনে’ রূপান্তরিত হয়ে গেছে। পুরো স্টেশন জুড়ে ছড়িয়ে আছে আবর্জনা। রেললাইনের মাঝে স্তুপাকারে পড়ে আছে ময়লা, আর দুর্গন্ধে স্টেশনে প্রবেশ করাও কষ্টসাধ্য।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দেখা যায়, ৪০ বছরের প্রতিবন্ধী ভবঘুরে আবুবক্কর নিজের খুশিমতো গান গাইতে গাইতে স্টেশন পরিষ্কার করছেন। গৌরীপুর উপজেলার শালীহর গ্রামের আবুবক্কর কয়েক মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে স্টেশন পরিষ্কার করে আসছেন।

স্থানীয়রা জানান, তিনি স্টেশনের দোকানপাটের পাশে ছড়িয়ে থাকা ময়লাও পরিষ্কার করেন।

গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার সফিকুল ইসলাম জানান, ঝাড়ুদার ও সুইপার পদে ৬ জন কর্মীর মধ্যে শুধুমাত্র শিউলী রানী পাল দায়িত্বে আছেন। তবে তিনি মূলত অফিসের ভেতরের পরিচ্ছন্নতা করছেন, প্লাটফর্মে কাজ করছেন না।

মাস্টার সফিকুল বলেন, ‘এমনি অবস্থায় ৬ জনের কাজ একা করার উপায় নেই। আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্ন সহযোগিতার মাধ্যমে স্টেশন পরিচ্ছন্ন রাখার, তবে পানি সরবরাহ ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।’

স্টেশনের দোকানদার এবং যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, ঝাড়ুদার শিউলী রানী পালকে প্লাটফরমে ঝাড়ু দিতে কখনো দেখা যায়নি। সেক্ষেত্রে ভবঘুরে আবুবক্কর ও জলিলই স্টেশন পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

শিউলী রানী পাল জানান, তাকে মূলত পোর্টার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তিন মাসের জন্য TLর (চুক্তিভিত্তিক মাস্টাররোল) হিসেবে স্টেশনে পাঠানো হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক মাস্টাররোলে তাকে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজে রাখা হলেও তিনি মূলত এ কাজের জন্য এখানে আসেননি। বর্তমানে তিনি একাই অফিসের ভিতরে পরিষ্কার করছেন, প্লাটফরমের কাজ করছেন না।

যাত্রীদের অভিযোগ, ২য় শ্রেণীর যাত্রীদের বিশ্রামাগর এখন ‘আবর্জনার ডাস্টবিনে’ পরিণত হয়েছে। প্রথম শ্রেণীর ও সাধারণ যাত্রীদের বিশ্রামাগারের সামনেও ময়লার স্তুপ। এক ও দুই নম্বর রেললাইনে যাত্রীদের প্লাটফরমে চলাফেরার সময় ময়লা-আবর্জনা পায়ে মাড়িয়ে যেতে হচ্ছে। স্টেশনের পুরাতন ভবনের পিছনের বাথরুম থেকে মল-মূত্র ছড়িয়ে গেছে প্লাটফর্মে।

গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের এই পরিস্থিতি শুধু যাত্রীদের কষ্ট করছে না, বরং পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ও হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও বাস্তবে এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।