চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেফতার

২৫ মার্চ সকালে সনদ দেয়ার কথা বলে গৃহবধূকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তাজু।

লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা
ধর্ষণ মামলার আসামি তাজু শেখ
ধর্ষণ মামলার আসামি তাজু শেখ |নয়া দিগন্ত

নড়াইলের লোহাগড়ায় চাকরি ও নাগরিক সনদ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে (২১) বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক গ্রামপুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তাজু শেখকে (৪০) গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেফতার তাজু শেখ উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই-ধানাইড় গ্রামের মরহুম আলিম শেখের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের একজন গ্রামপুলিশ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ পারিবারিক কলহের জেরে ভুক্তভোগী গৃহবধূ তার স্বামীর বাড়ি থেকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। বিষয়টি জানতে পেরে তাজু শেখ ওই গৃহবধূকে ফোন করেন। এ সময় তিনি তাজুকে জানান, তিনি স্বামীর বাড়ি থেকে রাগ করে চলে এসেছেন। এখন গার্মেন্টস-এ চাকরি করবেন।

এরপর তাজু শেখ তাকে বলেন, চাকরি পেতে নাগরিক সনদ লাগবে এবং সেটি তিনি ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন। পরদিন ২৫ মার্চ সকালে সনদ দেয়ার কথা বলে গৃহবধূকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তাজু। পরে ওই গৃহবধূর হাতে একটি নাগরিক সনদ ও ৫০০ টাকা দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ঘটনার পর ওই নারী চাকরির আশায় ঢাকার সাভারে চলে আসেন। তবে সেখানে কোনো ব্যবস্থা করতে না পেরে গত ৬ এপ্রিল বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর বিষয়টি পরিবারকে জানালে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) লোহাগড়া থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে তাজু শেখকে গ্রেফতার করে।

লোহাগড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) অজিত কুমার রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতার অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর জবানবন্দিসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।