খুলনার সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সাথে কথিত বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে নিহত সাখাওয়াত সরদারকে (৬০) বনদস্যু নয় বলে দাবি করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেল ৫টার দিকে কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের খোড়লকাটি বাজারে শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নিহত সাখাওয়াত সরদার বনদস্যু ছিলেন না। তিনি একজন ধর্মপ্রাণ ও নিরীহ ব্যক্তি ছিলেন এবং বনদস্যুদের হাতে দীর্ঘদিন জিম্মি ছিলেন। তাকে বনদস্যু হিসেবে প্রচার করে কোস্টগার্ড ভুল তথ্য দিয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
নিহতের মেয়ে মরিয়ম বেগম বলেন, তার বড় ভাই মফিজুলের সাথে দুলাভাই বাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আফজালের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল। বড় ভাইকে না পেয়ে বনদস্যুরা ছোট ভাই শাহিনকে অপহরণ করে এক মাস সুন্দরবনে আটকে রেখে নির্যাতন করে। পরে শাহিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ছেড়ে দিয়ে বাবা সাখাওয়াতকে জিম্মি করে রাখা হয়।
তার ভাষ্য, ‘আমরা শুনেছি, বাবাকে শিকল দিয়ে নৌকায় বেঁধে রাখা হতো। গত ২৫ জুন কোস্টগার্ডের অভিযানের সময় তিনি নিহত হন। অথচ পরে তাকে বনদস্যু বাহিনীর সদস্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
নিহতের ছোট ছেলে শাহিনও দাবি করেন, তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়েই তার বাবা প্রাণ হারান। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা নিরীহ মানুষ ছিলেন। বড় ভাইয়ের কাছে ১৭ লাখ টাকা পাওনার জেরে আমাদের পরিবারের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। আমার বাবাকে অন্যায়ভাবে বনদস্যু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’
তবে তিনি আরো বলেন, বড় ভাই মফিজুল বনদস্যু বাহিনীর সাথে জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তার নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছেন, তিনি নাকি অর্থ নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল গনি মোড়ল বলেন, ‘সাখাওয়াত সরদার একজন সৎ ও ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। এলাকার মানুষের আস্থার কারণে তিনি স্থানীয় মসজিদের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করতেন। তাকে বনদস্যু হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’
অন্যদিকে, কোস্টগার্ডের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গভীর রাতে সুন্দরবনের আরশিবশা নদীর বেসুখাল (বনপাড়া) এলাকায় কোস্টগার্ডের সাথে দুলাভাই বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে বনদস্যু সাখাওয়াত সরদার নিহত হন। এ সময় বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম ও সদস্য ইস্রাফিল হাওলাদারকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়।
কোস্টগার্ড জানায়, অভিযান থেকে ছয়টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, তিন রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন ও একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের এবং উদ্ধার হওয়া আলামত কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কয়রা থানার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।
উল্লেখ্য, নিহত সাখাওয়াত সরদার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের খোড়লকাটি গ্রামের এজাহার সরদারের ছেলে। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।



