ময়মনসিংহ অফিস ও ভালুকা সংবাদদাতা
ময়মনসিংহের ভালুকায় মহানবী হযরত মুহাম্মদকে স. কটূক্তি করার অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাস (২৮) নামেরে এক পোশাক শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব ও পুলিশ।
র্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃতরা হলেন গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার যাদুর তাহির গ্রামের সাজ্জাদুর রহমানের ছেলে ও পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড নামের পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপক (গার্মেন্ট শাখা) মো: তারেক হোসেন , কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর বড়ভিটা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মোঃ লিমন সরকার, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ছোটখালার গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে মোঃ মানিক মিয়া (২০), গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার যাদুর তাহির গ্রামের ইয়াকুর আলীর ছেলে এরশাদ আলী (৩৯), সুনামগঞ্জ জেলার ধোয়ারা উপজেলা বাঘমারা গ্রামের মুজিবুল হকের ছেলে নিজুম উদ্দিন (২০), মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বড়বাহাদুরপুর গ্রামের মোঃ সিরাজ মিয়ার ছেলে ও কারখানার ফ্লোর ইনচার্জ আলমগীর হোসেন, ঝালকাঠি জেলার পোনাবালিয়া গ্রামের মো: নিজামুন হক আকনের ছেলে কারখানার কোয়ালিটি ইনচার্জ মো. মিরাজ হোসেন আকন।
পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃতরা হলেন ভালুকা উপজেলার আজমল হাসান সগীর, স্থানীয় দোকান কর্মচারী মো: শাহিন মিয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো: নাজমুল ।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন।
শনিবার দুপুরে র্যাব-১৪ অধিনায়ক নয়মুল হাসান সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনার পরই হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা আত্মগোপনে ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একাধিক টিম জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করে। মামলার দেড়শো আসামিকেই গ্রেফতারের অভিযান চলছে।
তিনি জানান, ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছে এমন বক্তব্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার পেছনের কারণ ও হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারে কাজ করছে র্যাব।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার ‘পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড’ নামের পোশাক কারখানায় মহানবী হযরত মুহাম্মদকে স. কটূক্তি করার অভিযোগে কোয়ালিটি সুপারভাইজার দিপুকে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা। পরে তার লাশ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নিয়ে গাছের ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাত আড়াইটার দিকে অর্ধপোড়া লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একাধিক টিম ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই সাতজনকে আটক করা সম্ভব হয়।
নিহত দিপু চন্দ্র দাস (২৮) জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। দুই বছর ধরে তিনি পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেডের কোয়ালিটি সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছিলেন।
নিহতের বাবা রবি চন্দ্র দাস ও বোন চম্পা দাসের দাবি, উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে দিপুকে মিথ্যা অপবাদে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, দিপু শিক্ষিত ও সচেতন ছিলেন, তিনি এমন কাজ (ধর্ম অবমাননা) করতে পারেন না।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার অধিকার কারো নেই। কেন ওই যুবককে পুলিশের হাতে না দিয়ে জনতার হাতে তুলে দেয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



