নগরকান্দা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
ফরিদপুরের নগরকান্দায় ভারসাম্যহীন এক নারীর গর্ভে জন্ম নেয়া আলোচিত সেই নবজাতককে আদালতের নির্দেশে ঢাকার সেফ হোমে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে শিশুটির নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ বিবেচনায় গত ২৯ জুলাই এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে এক মাসের জন্য শিশুটিকে শর্তসাপেক্ষে হস্তান্তর করেছিলেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা আফরিন।
তবে পরবর্তীতে নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ ফরিদপুর আদালতে শিশুটিকে পুনরুদ্ধারের (রিকুইজিশন) আবেদন পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শিশুটিকে ঢাকার সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।
আদালতের এ নির্দেশের খবর পেয়ে সোমবার শিশুটিকে এক মাসের জন্য নিজেদের জিম্মায় পাওয়া নিঃসন্তান দম্পতি আবারো নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় তারা আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং শিশুটিকে নিজেদের কাছে রাখার আকুতি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিশুটির প্রতি ওই দম্পতির গভীর মমতা ও ভালোবাসা দেখে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
শিশুটিকে নিজেদের কাছে রাখার আকুতি জানালে ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘শিশুটি তাদের কাছে নিরাপদ—এটি তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশ থাকায় এ মুহূর্তে তার এককভাবে কিছু করার সুযোগ নেই। তিনি ওই দম্পতিকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা জানান এবং ভবিষ্যতে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুটিকে নিজেদের কাছে পাওয়ার জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেন।’
ইউএনও আরো বলেন, ‘শিশুটিকে নেয়ার জন্য অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে শিশুটির নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টি বিবেচনায় তিনি চান, বর্তমানে যাদের কাছে শিশুটি রয়েছে— সম্ভব হলে শিশুটি যেন তাদের কাছেই থাকে। এজন্য সংশ্লিষ্ট দম্পতিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আবেদন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জন্মের পর থেকেই শিশুটিকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। শিশুটির নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ এবং দত্তক দেয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে শিশুটির ভবিষ্যৎ অভিভাবকত্ব বা দত্তক দেয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে শিশুটিকে এক মাসের জন্য নিজেদের কাছে পাওয়া নিঃসন্তান দম্পতির সাথে শিশুটির যে আবেগঘন সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখন স্থানীয় মানুষের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক দিকটি বিবেচনা করে আইনানুগ উপায়ে দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে বর্তমানে যাদের কাছে শিশুটি আছে সেই দম্পতির নাম মোসা: লাভলী আক্তার, স্বামী মো: হান্নান মিয়া, জেলা টাঙ্গাইল।
সবশেষে, শিশুটির বর্তমান নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কল্যাণ নিশ্চিত হোক—এটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার। একই সাথে আইন ও আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে শিশুটির জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও কল্যাণকর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে—এমনটাই আশা করছেন এলাকাবাসী।



