সৌদিতে নিহত গোয়ালন্দের যুবক, ১৬ দিন পর লাশ পেল পরিবার

সকাল ৯টায় মুরাদের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় তার পরিবারের লোকজন, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আপনজনের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে।

মেহেদুল হাসান আক্কাস, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)

Location :

Goalanda
নিহত সৌদি প্রবাসী ও রাজবাড়ীর সন্তান মুরাদ শেখ, (ডানে) জানাজার মুহূর্ত
নিহত সৌদি প্রবাসী ও রাজবাড়ীর সন্তান মুরাদ শেখ, (ডানে) জানাজার মুহূর্ত |নয়া দিগন্ত

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার যুবক মুরাদ শেখের কফিনবন্দী লাশ দেশে এসেছে। দীর্ঘ ১৬ দিন পর শনিবার (৯ মে) ভোর সাড়ে ৪টায় হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় লাশবাহী কফিন।

নিহত মুরাদ শেখ গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ৬ নম্বর ওয়ার্ড দরাপের ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল খালেক শেখের ছেলে।

জানা যায়, সকাল ৯টায় মুরাদের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় তার পরিবারের লোকজন, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আপনজনের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। এরপর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা ১১টার দিকে উজানচর দুদুখান পাড়া হাফেজিয়া মাদরাসা মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাড়িতে মুরাদের বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, দু’টি শিশু মেয়েসন্তান ও ১০ মাস বয়সী এক ছেলেসন্তান রয়েছে। মুরাদের লাশ দেশে আনতে পরিবারের অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের এম্বাসিতে যোগাযোগ করে অবশেষে দীর্ঘ ১৬ দিন পর লাশ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে।

জানা যায়, সৌদি আরবে বসবাসরত গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার তোরাপ শেখের পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসাইন ও অন্যান্য সৌদি প্রবাসীদের প্রচেষ্টা ও আর্থিক সহযোগিতায় মুরাদের লাশ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে। মুরাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় মুরাদ শেখ (৩৬) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছিলেন।