ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রেললাইন খুলে ফেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে গফরগাঁও সেকশন বাদ দিয়ে ট্রেন চলাচলের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। তাছাড়াও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী ট্রেনগুলো গফরগাঁওয়ের ওপর দিয়ে না গিয়ে গৌরীপুর-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব হয়ে চলাচল করছে। একইভাবে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী ট্রেনগুলোও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-গৌরীপুর হয়ে ময়মনসিংহে প্রবেশ করবে।
ময়মনসিংহের রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, আজ সোমবার সকাল ১১টা ১৪ মিনিটে ঢাকাগামী যমুনা এক্সপ্রেস কিশোরগঞ্জ ভৈরব হয়ে যাত্রার উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ স্টেশন ছেড়ে যায়। জামালপুর এক্সপ্রেস ভৈরব ও গৌরীপুর হয়ে ময়মনসিংহে আসবে বলে জানান তিনি।
অপরদিকে, ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে ১১টায় ময়মনসিংহ স্টেশন ত্যাগ করে।
রুট পরিবর্তন এবং ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্তে সাধারণ যাত্রীরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে গফরগাঁও ও গাজীপুরগামী যাত্রীদের ভোগান্তি এখন চরমে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ মো: সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রেলপথে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। গফরগাঁও রুটে লাইন বিচ্ছিন্ন করার মতো ঘটনা ঘটায় দুর্ঘটনা এড়াতে রুট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছি এবং রেলপথে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।’
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন বলেন, ‘রেললাইনের একটি অংশের নাট খুলে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে ঢাকাগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। দু’দিন ধরে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। আজ কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
রেল সূত্র জানায়, সোমবার রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বাতিলের পাশাপাশি রুট পরিবর্তনের সুপারিশ করেছেন। অনিবার্য কারণে আজ যে ট্রেনগুলো বাতিল করা হয়েছে সেগুলো হলো- অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস (ঢাকা-তারাকান্দি-ঢাকা), ৭৪৪ নম্বর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস (দেওয়ানগঞ্জ বাজার-ঢাকা), ৭৭৮ নম্বর হাওর এক্সপ্রেস (মোহনগঞ্জ-ঢাকা)।
এদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাতিলকৃত ট্রেনের যাত্রীরা অনলাইনের মাধ্যমে টিকিটের মূল্য ফেরত (রিফান্ড) নিতে পারবেন। নিরাপত্তার স্বার্থে ও পরবর্তী শিডিউল বিপর্যয় এড়াতে যাত্রীদের সহযোগিতা চেয়েছেন কর্তৃপক্ষ।



