গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পাঁচ বছরের শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় আসামি মহির উদ্দিন ওরফে মহরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক আলমগীর আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার একমাত্র আসামি মহির উদ্দিনকে জেলহাজত থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত মহির উদ্দিন কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী থানার কোনাচীপাড়া-চুলীয়াচর এলাকার মরহুম তমছের আলীর ছেলে। রায়ের নথিতে তার বয়স ৪০ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স ৪৩ বছর।
মামলার অভিযোগ ও সাক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈর পৌরসভার কালামপুর উত্তরপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু মুসা আহম্মেদ রাফি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি পরিবারে পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়।
পরে একইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজন পুলিশের সহায়তায় কালামপুর এলাকার সোহাগপল্লীর উত্তর পাশে একটি সীমানাপ্রাচীরের ভেতর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশের বক্তব্যে জানা গেছে, শিশুটির গলায় তার ব্যবহৃত বেল্ট শক্ত করে বাঁধা ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পরে লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মো: শামীম মীর পরদিন ২৭ জুন কালিয়াকৈর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, তদন্ত শেষে একমাত্র আসামি মহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আরিফুর রহমান ও আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট তমিজ উদ্দিন মামলা পরিচালনা করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এরপর মহির উদ্দিন ওরফে মহরকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, উচ্চ আদালতের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন। মামলার নথি, সিডি, সাক্ষীদের সাক্ষ্যের জাবেদা নকলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন বছর পর এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশু মুসা আহম্মেদ রাফির পরিবারের সদস্যরা।



