সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান পাকার সাথে সাথে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার হাওরপাড়ের কৃষকরা। তবে, ধান কাটার ধুম পড়ায় চাষিরা খুশি হলেও ত্রিমুখী সঙ্কটে ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন তারা। কৃষি শ্রমিকের সঙ্কট, জ্বালানি সঙ্কট ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সাথে শিলাবৃষ্টি আর আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষকদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরে দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তবে ৭০ ভাগ জমির ধান এখনো পাকেনি। পাকা ধানগুলো কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
এদিকে, ভারী বৃষ্টিপাতে আকস্মিক বন্যা হতে পারে বলে হাওর এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৮ এপ্রিল থেকে সুনামগঞ্জ জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ফলে হাওরের বোরো ফসল ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ৮০ শতাংশ পাকা জমির ধান দ্রুত কাটার নির্দেশ দেয়া হয়।
অন্যদিকে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে দোয়ারাবাজার উপজেলার কোনো কোনো অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি আকারে কালবৈশাখী ঝড়-তুফান ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। যদিও গত এক সপ্তাহ ধরে এ দৃশ্য রাতের বেলায় বেশি দেখা গেছে।
দুপুর ১টার দিকে দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের কন্ঠাবন হাওরে গিয়ে দেখা যায়, অর্ধভেজা অবস্থায় ধান কাটছেন আবুল কাশেম ও রুবেল মিয়া নামের স্থানীয় দুই যুবক। ৭০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে মহাজনের ধান কাটছেন তারা। ১০ বিঘা জমিতে তারা বোরো ধানের আবাদ করেছে। তবে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বেশিরভাগ জমিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জমিতে হারভেস্টার মেশিন নিতে না পারায় ধান পাকলেও সময়মতো কাটতে পারছেন না। শ্রমিক সঙ্কট থাকায় দু’জনই কয়েকদিন ধরে পানিতে ধান কাটছেন এবং তা পরে একস্থান থেকে অন্যস্থানে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষক কামরুল ইসলাম জানান, জমির অধিকাংশ ধানই এখনো কাঁচা। এর মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস থেকে জানিয়েছে দ্রুত ধান কাটা সম্পন্ন করার জন্য। হারভেস্টার ব্যবহার করতে পারলে তা সম্ভব হতো। কিন্তু বাজারে তেল নেই, তেলের কারণে হারভেস্টার ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিকও সঙ্কট, অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এবার ফলন ভালো হলেও ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।
জানা যায়, উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের ছোট-বড় ৩৯টি হাওরে বোরো ধান রোপণ করা হয়েছে। বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে কিছু কিছু জমির ধান কাটা শেষ হলেও জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুর দিকে (মে মাসের মাঝামাঝি) পুরোদমে ধান ঘরে তোলা শেষ হয়। তাই ধান পাকার সাথে সাথেই কৃষকরা দ্রুত তা ঘরে তোলার চেষ্টা করেন। তবে দোয়ারাবাজার উপজেলা ভারতের সীমান্তবর্তী হওয়াতে এখানে পাহাড়ি ঢল আর শিলাবৃষ্টির প্রকোপটা বেশি থাকে। প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কায় অনেক সময় ৮০ শতাংশ পাকলেই ধান কাটা শুরু হয়ে যায়।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশ্রাফুল আলম খাঁন বলেন, ‘দোয়ারাবাজারে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগাম বন্যা থেকে বাঁচতে কৃষকদের সকল ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ জানান, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ভারী বৃষ্টি ও আগাম বন্যায় অনেক সময় বোরো ধানের ক্ষতি হয়ে থাকে। আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে কৃষকরা এবার ক্ষতির সম্মুখীন হবে না। উপজেলা প্রশাসন থেকে কৃষকদের সকল ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত।



