উল্লাপাড়ায় জামায়াতের নারী কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর

এ ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের অন্তত ছয়জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

মো: জাকিরুল হাসান, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)

Location :

Ullahpara
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি |নয়া দিগন্ত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, হামলা ও যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের অন্তত ছয়জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামে। অভিযোগ অনুযায়ী, নারী জামায়াতের নেত্রী সুমি খাতুন ও চ্যামেলীর নেতৃত্বে কয়েকজন নারী কর্মী ওই এলাকায় ভোটের প্রচারণায় অংশ নেন। এ সময় বিএনপি কর্মী মুন্না, আব্দুল হালিম, কোবাদ আলী খান, আনোয়ার, সবুর খান, আলম খান, মাসুদ খান, হেলাল ও ইমনের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের প্রচারণায় বাধা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও জামায়াত সূত্রে জানা যায়, প্রচারণাকালে বিএনপি কর্মীরা নারী কর্মীদের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকে এবং ‘চোর ধরা পড়ছে’ বলে উসকানিমূলক মন্তব্য করে। ভিডিও ধারণে নিষেধ করায় একপর্যায়ে নারী কর্মীদের ওপর কিল-ঘুষি মারার অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর পুরুষ কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নারী কর্মীদের উদ্ধার করতে গেলে তাদের ওপর বাটাম, বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে শিবির নেতা গোলাম মোস্তফা সাদ, জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম প্রধান, জামায়াত কর্মী ইমরানসহ আরো কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনায় জামায়াতের চারটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেট কার ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘নারী কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চাইতে গেলে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে আমরা উদ্ধার করতে গেলে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয় এবং আমাদের চারটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুর করা হয়।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বড়হর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচন কমিটির পরিচালক মো: সাকোয়াত হোসেন সাবু বলেন, ‘জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোট চাইতে এলে একটি বাড়িতে অসুস্থ রোগী থাকায় প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়। এরপর তারা পুরুষ কর্মীদের নিয়ে এলে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ধাওয়া দেয়। বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো হামলা করা হয়নি।’

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া থানার ওসি রুপকর (তদন্ত) জানান, কয়েকটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।