তেল নেই, আয় নেই

রাঙ্গামাটিতে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও স্পিডবোট চালকদের দুর্দশা

সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের তীব্র প্রভাব পড়েছে রাঙ্গামাটির দুর্গম এসব পাহাড়ি জনপদে। পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় এ গণপরিবহন ব্যবস্থা দিন দিন স্থবির হয়ে পড়ছে।

পুলক চক্রবর্তী, রাঙ্গামাটি

Location :

Rangamati
রাঙ্গামাটিতে তেলের জন্য লাইন
রাঙ্গামাটিতে তেলের জন্য লাইন |নয়া দিগন্ত

রাঙ্গামাটির ১০টি উপজেলার বেশির ভাগের যাতায়াতের রাস্তা দুর্গম হওয়ায় বড় আকারের যানবাহন চলে না। সেখানে আধা পাকা ও কাঁচা সড়কে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল আর নৌপথে স্পিডবোটসহ ইঞ্জিনচালিত নৌকাই যাতায়াতের প্রধান বাহন।

সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের তীব্র প্রভাব পড়েছে রাঙ্গামাটির দুর্গম এসব পাহাড়ি জনপদে। পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় এ গণপরিবহন ব্যবস্থা দিন দিন স্থবির হয়ে পড়ছে।

জেলার বিলাইছড়ি, বাঘাইছড়ি, লংগদু, নানিয়ারচর, জুরাছড়ি, কাউখালী, রাজস্থলীসহ দুর্গম পাহাড়ি এলাকার গণপরিবহনের চালকদের আয় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সাধারণ যাত্রীরাও পড়ছেন ভোগান্তিতে। তেলের পাম্পে কিংবা দোকানে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করে নিতে হচ্ছে জ্বালানি তেল।

ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, তাদের কাছে কোনো তেল মজুদ নেই। ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় খুব সামান্য তেল সরবরাহ করা হয়। পাম্পে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।

জেলায় শত শত ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও স্পিডবোট চালক রয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতে তারাই পরিবহন সেবা দিয়ে থাকেন। এখন জ্বালানি তেল সঙ্কটে যাত্রী সেবা দিতে তারা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। উপজেলার তেলের দোকানগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

চালকরা অভিযোগ করে বলেন, আগে যা আয় হতো, এখন তার অর্ধেকও হয় না। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে জীবিকা নির্বাহ করাই এখন দায়। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা আয় হতো। এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়।

চালকরা বলেন, যে পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়ে সারাদিনের আয় তো দূরের কথা, নিজের ব্যক্তিগত খরচই চলছে না। তেল নিতে বাড়তি সময় নষ্ট হচ্ছে, আয়ও কমছে। এক মাস ধরে এ অবস্থা চলছে।

চালকরা আরো বলেন, এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরছি। কিন্তু তেল নেই। এটাই তো জীবিকা। তেল সংকটে অনেকে পরিবহন বন্ধ রেখেছেন।

চাহিদামতো অকটেন না পাওয়ায় ৩১ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিন কাপ্তাই হ্রদে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে দুর্গম এলাকার যাত্রীরা মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হন। জরুরি রোগী পরিবহনেও ভোগান্তি দেখা দেয়। পরে জেলা শহরের তিনটি ফিলিং স্টেশন থেকে সপ্তাহে তিন দিন ৫০০ লিটার ও উপজেলার পাম্প থেকে দিনে ১৫০ লিটার করে অকটেন বরাদ্দ দেয়ার পর ৫ এপ্রিল থেকে স্পিডবোট চলাচল শুরু হয়।