সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সরকারি খাল দখল ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার সকালে উপজেলার খুঁটিকাটা-কাঠালবাড়িয়া গ্রামের সংক্রান্তির খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খালটি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার সকালে এলাকাবাসী খালটি অবমুক্ত করে মাছ ধরতে গেলে সেখানে জামায়াতের কয়েকজন কর্মী উপস্থিত হন। এ সময় খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে বিএনপির কিছু সমর্থকও ঘটনাস্থলে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম (৩৩), বিএনপির সমর্থক কবির হোসেন (২৬) এবং জামায়াতের কর্মী সাদ হোসেন (২৮) ও আরাফাত (২৫)সহ অন্তত সাতজন আহত হন। আহতদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
জামায়াত নেতা শাহিন হোসেন বলেন, সংক্রান্তির খালের পূর্ববর্তী ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন ইজারা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় দরিদ্র মানুষ মাছ ধরতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম বলেন, তিনি খালটির পুনরায় ইজারা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এবং সেখানে মাছ চাষ চলমান ছিল। তার দাবি, প্রতিপক্ষ রড ও শাবল নিয়ে এসে হামলা চালিয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, সরকারি খাল নিয়ে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



