নতুন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হচ্ছেন কে?

শিক্ষা অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে ঘিরে। তিনি এর আগে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অবদান সর্বজন বিদিত।

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর
(বাঁ দিক থেকে) ওসমান ফারুক, ওবায়দুল ইসলাম ও এহছানুল হক মিলন
(বাঁ দিক থেকে) ওসমান ফারুক, ওবায়দুল ইসলাম ও এহছানুল হক মিলন |নয়া দিগন্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। মন্ত্রিসভার কাঠামো নির্ধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে দলীয় উচ্চপর্যায়ে চলছে নিবিড় আলোচনা। বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কার হাতে যাচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, শিক্ষা মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

শিক্ষামন্ত্রীর সম্ভাব্য তালিকায় ঘুরে ফিরে আসছে তিনটি আলোচিত নাম— ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, ওসমান ফারুক ও অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম।

তবে, শিক্ষা অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে ঘিরে। তিনি এর আগে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অবদান সর্বজন বিদিত।

সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। আগে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ও মন্ত্রণালয় পরিচালনায় বাস্তব দক্ষতার কারণে তাকে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষামন্ত্রী করার আলোচনা জোরালো হয়েছে। দলীয় একটি সূত্রের ভাষ্য, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতার বিবেচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন।

পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন থেকে জয়ী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। অতীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতায় তিনি এগিয়ে থাকলেও দলীয় কঠিন সময়ে এলাকায় তার সক্রিয়তা নিয়ে কিছু সমালোচনা রয়েছে। তবুও প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে তার নাম আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

এ ছাড়া অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামকে ঘিরেও আলোচনা চলছে। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত না হলেও টেকনোক্রেট কোটায় তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির মন্ত্রিসভার রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত। অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক অবদান, নির্বাচনী ফলাফল ও কৌশলগত ভারসাম্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদ ঘিরে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক ও বাউবি ভিসি ড. ওবায়দুল ইসলামের নাম রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে।