মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত সিংগুর পুঞ্জির চার শতাধিক খাসিয়া অধিবাসী আতঙ্কে ও উৎকন্ঠায় দিনযাপন করছেন। খাসিয়া পুঞ্জিতে একটি চক্রের ঘন ঘন চুরি, খাসিয়াদের কবরস্থান দখলের পায়তারাসহ খাসিয়াদের হুমকি ধামকিসহ নানা কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পুঞ্জির খাসিয়া অধিবাসীরা।
সরেজিমেন, কথা হয় সিংগুর পান পুঞ্জির মন্ত্রী (পুঞ্জি প্রধান) বিনেট মানারের সাথে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘একটি চক্র সিংগুর পুঞ্জিতে অশান্তি ও অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করছে। কয়েকদিন পর পর চক্রটি পুঞ্জির বিদ্যুতের তার, পানির পাম্প, মোটর, জুমের পান চুরি করে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। তারা আমাদের কবরস্থান দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশের কাছে সব সময় বিচার পাই না।’ স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
পুঞ্জি প্রধানের ছেলে কুটলিধার বলেন, ‘ঈদের দিন রাতে পান জুমে চুরির ঘটনা ঘটে। পান চুরির পাশাপাশি পুঞ্জির পানির মোটর, বৈদ্যুতিক তারও চুরি হয়। এর কিছুদিন আগেও বিদ্যুতের মেইন লাইনের কয়েক লাখ টাকার তার, পানির পাম্প, মটর, পান চুরি হয়। বিভিন্ন সময় পুলিশকে ইনফর্ম করলে সহযোগীতা পাওয়া যায় না।’
তিনি আরো বলেন, ‘ঈদের রাতের ঘটনায় পরে ৯৯৯ ফোন দিয়ে অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ এসে মাসুক মিয়া নামক এক ব্যক্তিকে চুরির অভিযোগে গ্রেফতার করে। এসময় মাসুক মিয়ার স্বীকারোক্তি মোতাবেক চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের তিন হাজার গজ বৈদ্যুতিক মেইন লাইনের তার, এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি পানির মটর, দু’টি সাব মারসেবল পানির পাম্প ও ৩০ হাজার টাকা মূল্যের দুই হাজার ফুট পাইপ উদ্ধার করে পুলিশ।’
পুঞ্জির সিনিয়র সিটিজেন লিপটন মারাক ও রিগ্যান খংপগা জানান, সিংগুর পুঞ্জিতে প্রায় ৪০০ অধিবাসী বসবাস করেন। সকলের একমাত্র আয়ের উৎস পান চাষ। কিন্তু নানাভাবে পান চাষে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সেচের জন্য ব্যবহৃত পানির পাম্প চুরি, বৈদ্যুতিক তার ও ট্রান্সমিটার চুরি করে একটি চক্র। পুলিশ সবসময় আন্তরিকভাবে সহযোগীতা করে না। সম্প্রতি দুই দফায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়। পানও চুরি হয়।
তারা প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সিংগর পুঞ্জির সাম্প্রতিক অপরাধ কর্মকাণ্ডকে দমন করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। পুঞ্জির খাসিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুঞ্জির চোরাই মালামাল উদ্বার করে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’



