শ্যামাসুন্দরী খালকে বহমান করা না গেলে রংপুর মহানগর বসবাসের অনুপোযোগী হয়ে পড়বে। আর শ্যামা সুন্দরী খালকে বাঁচাতে হলে তিস্তার সাথে ঘাঘটের সংযোগস্থল খুলে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে রংপুর টাউন হলে গ্রীন ভয়েস আয়োজিত ‘ তিস্তা শ্যামা সুন্দরী খাল এবং রংপুর বিভাগের প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায়’ বিভাগীয় পরিবেশ সম্মেলনে একথা বলেন তারা।
গ্রীন ভয়েসের রংপুর বিভাগের সমন্বয়ক রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন। এর আগে তিনি জাতীয় পতাকা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গ্রীন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, রিভারাইনস পিপলসের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ, উদীচির সভাপতি ড. শ্বাশত ভট্রাচার্য, বাপার রংপুর জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শামীমা আখতার শিরিন, সদস্য সচিব রশিদুস সুলতান বাবলু, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইজে সাধারণ সম্পাদক যমুনা টেলিভিশনের রংপুর বিভাগীয় প্রধান সরকার মাজহারুল মান্নান, বাংলাভিশনের ব্যুরো প্রধান জুয়েল আহমেদ, বেলার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়কারী তম্ময় শ্যানাল।
আরো বক্তব্য রাখেন গ্রীন ভয়েসের রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা , বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলনে সিটি প্রশাসক ডন বলেন, ‘আমরা যদি রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রাকৃতিক পরিবেশকে বাঁচাতে চাই। খাল কেন্দ্রিক যদি কোন টেকসই মাস্টার পরিকল্পনা যদি করতে চাই, তাহলে শ্যামাসুন্দরী খালের পাশাপাশি কাইদামারী, ইচ্ছামতী, কেডি এই খাল, চিকলি বিল, কুকরুল বিলকেও আমাদেরকে দৃষ্টিতে আনতে হবে। এবং আমি চাই যে একটি প্রেসার গ্রুপ থাকুক। এর মাধ্যমে মাস্টারপ্লান করা গেলে রংপুর মহানগরীকে ইতালির ভেনিস নগরীর মতো করে গড়ে তোলা সম্ভব।’
ডন আরো বলেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের প্রাণ, প্রকৃতিকে বাঁচাতে হবে। তা নাহলে আমাদের অনেক মূল্য দিতে হবে। সরকার এরই মধ্যে খাল খননের কার্যক্রম শুরু করেছে। বৃক্ষরোপন কর্মসূচি শুরু করেছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছে।‘
সম্মেলনে রিভারাইনস পিপলস পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, শ্যামাসুন্দরীকে বহমান রাখতে হলে ঘাঘট নদীকে বাঁচাতে হবে। কারণ ঘাঘট নদী দিয়েই শ্যামাসুন্দরী বহমান থাকবে। কিন্তু ঘাঘট নদীটাকে মেরে ফেলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার শৈলমারী ইউনিয়নের আলশিয়া পাড়া গ্রামে তিস্তা থেকে এই নদীটার মুখ বন্ধ করে দিয়েছে।
ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘এখন ঘাঘট নদীতে যদি পানি না থাকে, শ্যামাসুন্দরী কি পানি পাবে? তাহলে আমাদের শ্যামাসুন্দরীকে বাঁচাতে হলে ঘাঘট নদীকে বাঁচাতে হবে। ঘাঘট নদীকে বাঁচাতে হলে নীলফামারীর জলঢাকা শৈলমারীর ওই আলশিয়া পাড়া গ্রামের ওই জায়গার সংযোগ স্থাপন করতে হবে। তা নাহলে শ্যামাসুন্দরীকে জীবন্ত করতে যে কোন পরিকল্পনা নেয়া হলে সেটা কাজে লাগবে না। এজন্য আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘তিস্তা একটি বড় সমস্যা। এই অঞ্চলের তিস্তা নিয়ে অনেক এখানে অধঃ অধঃসারা যেন আমাদের বাবা যারা তিস্তা এবং এখানকার পরিবেশ নিয়ে আমরা এত কাজ করেছি, এত সমাবেশ, মিটিং মিছিল করেছি। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে। আমরা কিন্তু সমস্যার সমাধান অনেক হয়। গত ইন্টারিম গভর্নমেন্টেও আমরা অনেক এখানে কাজ করেছি। কিন্তু কিছুই হয়নি। কিন্তু এটা হতে হবে।’
আলমগীর কবির আরো বলেন, ‘রংপুরের সুন্দরীর যে খালটা আছে এটা এই শহরের একটা দৃষ্টি নন্দন জায়গা হবে। ওখানে হাটবে, ওখানে নৌকা চলবে, ওখানে মানুষের বিনোদন হবে, ওখানে বাজার হবে, ওখানে সদাই হবে। ওখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এই রংপুর শহরে আসবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এখানকার প্রশাসক যদি বাইরের খালগুলো দেখে আসেন এবং সেভাবে এই খালকে দখল দুষণমুক্ত করে বহমান করেন। রংপুর শহরটাকে সাজানোর চেষ্টা করেন। তাহলে এই রংপুরের চেহারা, রংপুরের প্রকৃতি, রংপুরের অর্থনীতির চাকা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হবে।’



