ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থার প্রস্তাবকে স্বাগত জানাল মালয়েশিয়া

‘নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কিছু শক্তিশালী প্রবক্তা এটিকে অসমভাবে প্রয়োগ করছেন বলে মনে হয়। আন্তর্জাতিক আইনকে বেছে বেছে প্রয়োগ করা যায় না।’

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ আয়োজনের জন্য পাকিস্তানের সময়োপযোগী ও গঠনমূলক প্রস্তাবকে আমি স্বাগত জানাই। বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ফেইসবুক পেজে এক পোস্টে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘ওমান ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর নেতৃত্বের পূর্ববর্তী প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার পর এই চরম আঞ্চলিক বিপদের মুহূর্তে এগিয়ে আসায় আমি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর নেতাদের স্বাগত জানাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক এবং মুসলিম বিশ্বে একটি বিশ্বাসযোগ্য কণ্ঠস্বর হিসেবে এর অবস্থান অর্থপূর্ণ আলোচনার জন্য পরিস্থিতি তৈরিতে একটি শক্তিশালী অবস্থানে রাখতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়া এই উদ্যোগকে সমর্থন করে এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে প্রস্তাবটি যে মনোভাব নিয়ে দেয়া হয়েছে, সেই মনোভাব নিয়েই সাড়া দিতে উৎসাহিত করে। আমি প্রত্যাশার সাথে সেই ইঙ্গিতগুলো লক্ষ্য করছি, যদিও তা অসম্পূর্ণ, যা থেকে বোঝা যায় যে কূটনীতির জন্য এখনো কিছু সুযোগ থাকতে পারে। সেই সুযোগকে তার প্রাপ্য গুরুত্বের সাথেই বিবেচনা করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘যেকোনো আলোচনা অবশ্যই প্রকৃত উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে, সঙ্ঘাতের অবসান ঘটানোর একটি সুস্পষ্ট অঙ্গীকারের মাধ্যমে। কৌশলগত সুবিধার জন্য এর গতি নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এমন অনেক যুদ্ধবিরতি আগে দেখেছে, যা সমাপ্তির পরিবর্তে কেবল বিরতি হিসেবে কাজ করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা স্বীকৃত ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকারকে পুনর্ব্যক্ত করছে। বিশেষ করে দেশটিতে ও লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত হামলার পরিপ্রেক্ষিতে। একইসাথে আমরা সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের এবং এটা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি যে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র অর্থাৎ উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর বেসামরিক জনগণ ও অবকাঠামো যেন এমন একটি সঙ্ঘাতে আর জড়িয়ে না পড়ে, যা তারা এখনো বেছে নেয়নি। উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো অর্থনৈতিক, সামাজিক ও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার দিক থেকে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘এটিও উদ্বেগের বিষয় যে, নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কিছু শক্তিশালী প্রবক্তা এটিকে অসমভাবে প্রয়োগ করছেন বলে মনে হয়। আন্তর্জাতিক আইনকে বেছে বেছে প্রয়োগ করা যায় না। এটি এক পক্ষকে জবাবদিহিতা থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি অন্য পক্ষকে তার আত্মরক্ষার সহজাত অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না। এর বিশ্বাসযোগ্যতা সামঞ্জস্যের ওপর নির্ভর করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আমি পরিস্থিতি আরো ভালোভাবে বোঝার জন্য এবং উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে কথা বলার জন্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ, তুরস্ক, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, পাকিস্তান ও অন্যান্য অংশীদারদের নেতাদের সাথে আলোচনা করেছি। মালয়েশিয়া একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে প্রতিটি বিশ্বাসযোগ্য প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে যাবে।’